রবিবার , ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ২৭শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

সুন্দরগঞ্জে চুপিসারে আনসার ও ভিডিপি ক্লাব কমিটি গঠনের অভিযোগ!

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সনদ প্রাপ্ত অধিকাংশ আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের পাশকাটিয়ে চুপিসারে আনছার ও ভিডিপি ক্লাবের পরিচালনা কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে এলাকায় দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
জানা গিয়েছে, উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চাচিয়া মীরগঞ্জ আনসার ও ভিডিপি ক্লাবটিতে দীর্ঘদিন যাবৎ কোনো পরিচালনা কমিটি না থাকায় তা গঠনের জন্য কয়েক মাস আগে সনদ প্রাপ্ত আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের কয়েকজন স্থানীয় আনসার ও ভিডিপি অফিসারের কার্যালয়ে কর্মরত উপজেলা কমান্ডার
(ভারপ্রাপ্ত) শেফালী বেগমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি মিটিং করার পরামর্শ দেন। পরামর্শ অনুযায়ী স্থানীয় আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের উদ্যোগে ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের উপস্থিতিতে আয়োজিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ক্লাবটির পরিচালনা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং রেজুলেশনের কপি ও কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর সম্বলিত তালিকা ওই কর্মকর্তার নিকট জমা দেন কামরুজ্জামান, ফুল মিয়াসহ আরো কয়েকজন সদস্য। এরপর তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাথে কয়েকবার যোগাযোগ করলে তিনি করোনা কালে এগুলো করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। ওই কমান্ডার অবসরে যাওয়ার পর নতুন যোগদানকৃত উপজেলা কমান্ডার গোলাম রব্বানীর সাথে কমিটি গঠনের বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করলে তাতে ওই কর্মকর্তা সাড়া দেননি বলে অভিযোগ ওই সদস্যদের।
এদিকে, গত ৫ সেপ্টেম্বর পূর্বে জমাদানকৃত কমিটি গঠনের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে তাদের অজান্তেই ওই কমান্ডার ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট অন্য আরেকটি কমিটির অনুমোদনের জন্য জেলা কমান্ড্যান্ট, গাইবান্ধা বরাবর আবেদন করেন। যার স্মারক নং- ৪৪.০৩.৩২৯১.০০৬.০১.০০২.২১-১২১। আবেদনে উল্লেখিত তথ্য বলছে, আনসার ও ভিডিপি ক্লাবটি দীর্ঘদিন যাবৎ জমি দাতা আফতাব হোসেনের ভোগদখলে ছিল।
কিন্তু ওই ক্লাবের সনদধারী আনসার ও ভিডিপির সিনিয়র সদস্য কামরুজ্জামান, আব্দুর রহমান, মোত্তালেব হোসেন, গোলাম মোস্তফা, সমস্তভান, সুরুজা, আমিনাসহ আরো অনেকের ভাষ্য তৎকালীন ইউনিয়ন কমান্ডার আফতাব উদ্দিন ৭ এপ্রিল ১৯৯০ ইং খ্রীষ্টাব্দে ওই ক্লাবটির উন্নয়ন কল্পে মহাপরিচালকের নামে ১৩ শতাংশ জমি দান করেন। বিষয়টি নজরে আসলে তৎকালীন মহাপরিচালক খলিলুর রহমান চৌধুরী, জেলা কমান্ড্যান্ট হাসিবুর রহমান ও দায়িত্ব প্রাপ্ত উপজেলা কমান্ডার ওই ক্লাব উদ্বোধনের জন্য আসেন। ওই সময় উপার্জনের কোনো পথ না থাকায় জমি দাতা আফতাব উদ্দিনকে দানকৃত ওই জমির দক্ষিণ পাশে ছোট্ট একটি টি স্টল করার অনুমতি দেন মহাপরিচালক। যা বৃদ্ধ আফতাবের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন। সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য কিছু গাছও লাগিয়েছিলেন তিনি। সেগুলো বেশ বড় হয়েছে এখন। ওই ছোট্ট টি স্টলটি ছাড়া বাকী জায়গা পুরোটা জুড়েই রয়েছে ওই ক্লাবের স্থাপনা ও গাছপালা।
আনসার ও ভিডিপি ক্লাবের নিষ্ক্রিয় সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন,” ৯২ সালে বার্ষিক ২০ হাজার টাকা লাভ দেওয়ার কথা বলে আফতাবকে ঋণ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই টাকা পরিশোধ করেন নাই। তিনি আরো বলেন, কিছুদিন আগে কাউকে না জানিয়ে সমিতির ব্যাংক একাউন্ট থেকে আমি কিছু টাকা তুলেছি। পরে বিষয়টি উপজেলা কমান্ডার জানতে পেরে তা আবার ব্যাংকে জমা করেছি। এ নিয়ে রিপোর্ট না করার অনুরোধও করেন সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম।”
ওই ১ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আফতাব বলেন, ঋণ নিয়েছিলাম কি না তা সদস্যরাই বলবেন। আর গাছগুলো আমি সন্তানের মতো যতœ করে বড় করেছি। চায়ের দোকানটি করার অনুমতি দিয়েছিলেন ওই সময়ের মহাপরিচালক খলিলুর রহমান চৌধুরী। বিষয়টি সবাই জানে বলেই কেঁদে ফেলেন আফতাব। বলেন, এ ষড়যন্ত্র নতুন নয়।
উপস্থিত সদস্যরা বলছেন,” তিনি কোনো ধরণের ঋণ গ্রহন করেননি। এটা ডাহা মিথ্যে কথা। এর আগে কমিটি পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাবেক কমান্ডার শেফালির নিকট জমা দিয়েছিলাম আমরা। তিনি অবসরে যাওয়ার পর নতুন যোগদানকৃত উপজেলা কমান্ডার গোলাম রব্বানীর নিকট গেলে তিনি কমিটি গঠনের জন্য ৩শ টাকার স্ট্যাম্পে কিছু শর্ত নিজ হাতে লিখে তাতে আমাদের স্বাক্ষর নিয়ে জমা নেন। এখন শুনছি আমাদের কমিটি না করে ও সনদধারী আনসারদের বাদ দিয়েই নাকি দুই-চারজন আনসার ও ভিডিপি সদস্যকে নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তা বাতিলের দাবিও করেছেন তারা।”
ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
কমিটি গঠনের কাগজপত্র জমা এবং স্ট্যাম্প স্বাক্ষর করে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাবেক উপজেলা কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) শেফালী বেগম।
এদিকে, কমিটি গঠনের কাগজপত্র ও স্ট্যাম্প জমা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে উপজেলা কমান্ডার গোলাম রব্বানী বলছেন, কোনো কাগজপত্র তারা জমা দেয়নি এবং স্ট্যাম্পও নেওয়া হয়নি। তবে ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে স্বীকার করেন ওই কর্মকর্তা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নুরুল ইসলাম আমাকে না জানিয়ে সোনালী ব্যাংকের হিসাব নাম্বার থেকে ইতিপূর্বে ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছিলেন। কিন্তু আমি জানার পরে তা আবার জমা করিয়েছি। না জানিয়ে টাকা উত্তোলন তছরুফের পর্যায়ে পড়ে কি না- জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তোর দিতে পারেননি। কমিটি হলেও তা পরিবর্তন করা যাবে না বিষয়টি এমন নয় দাবি করে তিনি আরো বলেন, পুজো বের হলে ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে সকল আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের সাথে নিয়েই একটি কমিটি গঠন করা হবে বলে যোগ করেন ওই কর্মকর্তা।
জেলা কমান্ড্যান্ট রেজাউল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান,“একটি আবেদন এসেছিল এবং তা অনুমোদনও দিয়েছি। তবে যেহেতু ঘটনাটি জানলাম , সেক্ষেত্রে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।