জাতীয় কবি,সাম্যের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রবিবার (২৮ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয় চত্বরে টাংগাইলের নাগরপুরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ কবি নজরুল উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে অত্র বিদ্যালয়ের সুযোগ্য প্রধান শিক্ষক মো.মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র সহকারি শিক্ষক মো.দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় দোয়া পরিচালনা করেন সিনিয়র শিক্ষক(ইসলাম শিক্ষা)হযরত মাওলানা আব্দুল হাকিম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অত্র বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মো.মোন্নাফ মিয়া, সহকারি শিক্ষক মো.আবুল বাশার মো.মনির হোসেনসহ সকল শিক্ষক/শিক্ষিকা,কর্মকর্তা,কর্ মচারি ও সকল শ্রেনীর শিক্ষার্থীবৃন্দ।
উল্লেখ্য,জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (২৭ আগস্ট,১৯৭৬) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এ বিদ্রোহী সত্ত্বা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধেও নজরুলের কবিতা-গান জনগণকে উজ্জীবিত করেছে।নজরুল ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার অগ্রসর মানুষ। ইসলামী গজলের পাশাপাশি লিখে গেছেন শ্যামা সংগীত। বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হয় জাতীয় নজরুলের হাত ধরে। সাহিত্য হয় সমৃদ্ধ। শুধু কবিতা ও গানেই তিনি নিজেকে সীমিত রাখেননি; লিখেছেন নাটক-উপন্যাসও। তিনি সমৃদ্ধ করেছিলেন বাংলা শিশুসাহিত্যকেও। ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের ধারাকে নজরুল তার সাহিত্যে বিপুলভাবে ধারণ করেছেন। মানুষের দুয়ারে পুনর্জাগরণের ডাক পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। একজন বলিষ্ঠ নেতার মতোই সমাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন নজরুল। কবির মৃত্যুর মধ্যদিয়ে বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী যুগের অবসান হয়েছিল। কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে (জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। ছোটবেলায় তার ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন।
বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে স্বাধীন বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবারে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। তাকে দেয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত হন কবি কাজী নজরুল ইসলাম।