শনিবার , ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১লা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ২৬শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

আগৈলঝাড়ায় অবৈধ জালের কারণে হুমকির মুখে দেশী প্রজাতির মাছ ও জীব বৈচিত্র

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ২১ আগস্ট, ২০২২

উন্মুক্ত জলাশয়, বিলাঞ্চল ও খালে গুপ্ত ঘাতকের মতো অবৈধ কারেন্ট, চায়না-দুয়ারী ও ভেসাল জাল মাছ ধরার ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে অসাধু মৎস্য শিকারীরা। এতে হুমকির মুখে পরেছে দেশীয় প্রজাতির মাছসহ জীব-বৈচিত্র।
সরেজমিনে জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দেশীয় প্রজাতির মাছ নিধনের জন্য খাল-বিলের মধ্যে নিষিদ্ধ কারেন্ট, চায়না-দুয়ারী, ভেসাল জাল, বাঁশের চাটাইয়ের গড়ায় চাই-বাইন্না দিয়ে নিধন করা হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনাসহ বিভিন্ন জলজ প্রানী। এমনকি সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টেটা দিয়ে নিধন করা হচ্ছে দেশীয় প্রজাতীর মাছ।
এ ব্যাপারে বরিশাল সরকারী ব্রজমোহন কলেজের প্রানীবিদ্যা বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক মো. মতিয়ার রহমান বলেন, অবৈধ জাল ব্যবহারের কারনে মাছের রেনু পোনা ধ্বংসের পাশাপাশি ৭০ প্রকার জলজ প্রাণী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ফলে জীব-বৈচিত্র চরম হুমকি মুখে রয়েছে। পানিতে বসবাসকারী ছোট ছোট প্রানীগুলোকে বড় প্রানীরা খেয়ে বেঁচে থাকে। এখন ছোট প্রানীগুলো যদি ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে বড় প্রানীগুলোও ধ্বংস হয়ে যাবে। যার প্রভাব পরবে জনজীবনে।
তিনি আরও বলেন, জীব-বৈচিত্র টিকিয়ে রাখতে হলে মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে। এরজন্য যে আইন রয়েছে তৃণমূলপর্যায়ে সেই আইনের সঠিক বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ জাল উৎপাদনকারী কারখানাগুলো ধ্বংস করা হলে রক্ষা পাবে জীব-বৈচিত্র।
সচেতন নাগরিকদের মতে, দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রানী রক্ষায় জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলায় প্রতিনিয়ত অভিযান চালিয়ে কারেন্ট ও চায়না দুয়ারী জাল ধ্বংস করা হলেও গৌরনদী, উজিরপুর, বানারীপাড়া, বাকেরগঞ্জ, বাবুগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলাগুলোতে দৃশ্যমান কোন অভিযান পরিচালিত হচ্ছেনা। এমনকি হাট-বাজারগুলোতে অবৈধ জাল বিক্রি করা হলেও নেই কোন অভিযান।
গৌরনদী উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, দেশীয় প্রজাতীর মাছ রক্ষায় ২০২১ জুলাই থেকে ২০২২ জুন পর্যন্ত ১২টি অভিযান পরিচালনার নিয়ম রয়েছে। এ জন্য দেশীয় প্রজাতীর মাছ ও শামুক সংরক্ষন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রতি তিন মাস পরপর ১৪ হাজার একশ’ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সেই বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
গৌরনদী উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ আবুল বাসার জানান, গত অর্থবছরে ১৪টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের মাগুরা ষ্টিল ব্রীজ ও দোনারকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ হাজার মিটার অবৈধ জাল ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মৎস্য শিকারীদের সচেতন করে তোলার পাশাপাশি নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, দেশীয় প্রজাতির মৎস্য সম্পদ রক্ষায় প্রতিটি উপজেলায় অভিযান পরিচালনার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।