শনিবার , ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১লা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ২৬শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

বরিশালগামী লঞ্চের ডেকে সন্তান প্রসব ; পরিবারের আজীবন লঞ্চ যাত্রা ফ্রি

প্রকাশিত হয়েছে- শুক্রবার, ১৯ আগস্ট, ২০২২

ঢাকা থেকে বরিশালে আসার পথে এমভি প্রিন্স আওলাদ-১০ লঞ্চের ডেকে জন্ম নেওয়া ছেলে শিশুটি ও তার বাবা-মায়ের নৌযাত্রা আজীবন ফ্রি ঘোষণা করেছেন লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার দুপুরে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে এমভি প্রিন্স আওলাদ-১০ লঞ্চের ব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেন, শিশু সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার বিষয়টি লঞ্চের মালিক বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতেই জানতে পারেন। পরবর্তীতে তার নির্দেশে কোম্পানির প¶ থেকে প্রসূতি ঝুমুর বেগম ও তার নবজাতক সন্তানকে নগদ ১০ হাজার টাকা উপহার দেওয়া হয়েছে। একইসাথে ওই শিশুটিসহ তার বাবা-মাকে আজীবন কোম্পানির যেকোনো লঞ্চে বিনামূল্যে ভ্রমণের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
লঞ্চের সুপারভাইজার হৃদয় খান বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টার দিকে হঠাৎ করে গর্ভবতী এক নারীর স্বজনরা আমাদের কাছে আসেন। তারা ওই নারীর প্রসব বেদনা ওঠার কথা আমাদের জানালে আমরা তাৎক্ষণিক একটি কেবিনের ব্যবস্থা করি। তবে ওই নারীকে নিয়ে স্বজনরা কেবিনে যেতে না চাইলে, কোম্পানির প¶ থেকে ডেকেই পর্দা দিয়ে আড়াল করে সকল ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীতে লঞ্চে থাকা একজন ধাত্রী ও নার্সের সহায়তায় মেঘনা নদীতে থাকাকালীন সময়ে রাত একটার দিকে ওই প্রসূতির স্বাভাবিকভাবেই (নরমাল ডেলিভারী) পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে। প্রসূতিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নিরাপদে বরিশাল নিয়ে আসা হয়। পরে শুক্রবার সকালে স্বজনরা নবজাতক শিশু সন্তানসহ তার মাকে নিয়ে চলে যান।
প্রসূতি ঝুমুর বেগমের মা মিরু বেগম জানান, তার মেয়ে জামালপুরে শ্বশুর বাড়িতে থাকে। আর মেয়ে জামাই হারিছুর রহমান নারায়নগঞ্জে ব্যবসা করেন। হিসেব অনুযায়ী আরও ১৮ দিন পরে ঝুমুরের সন্তান প্রসবের কথা ছিলো। তাই আগে ভাগে ঝুমুরকে নিয়ে বরিশাল সদর উপজেলার শোলনা গ্রামের বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়া হয়। সাথে ঝুমুরের আট বছরের ছেলে সাইমুন, ভাই বেল্লাল হোসেন, তার স্ত্রী রুমকি বেগম, বোন লিপি বেগম ও নাতি রিফাত ছিলো।
১৫ বছরে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ধাত্রীর দুঃসাহসিক কাজ \ প্রসূতি ঝুমুর বেগমের প্রসব বেদনার খবর পেয়ে অনেকটা দুশ্চিন্তায় পরে যান লঞ্চের স্টাফরা। একপর্যায়ে স্টাফরা মাইকিংয়ের মাধ্যমে লঞ্চে কোন চিকিৎসক, নার্স কিংবা ধাত্রী খুঁজতে থাকেন। মাইকিং শুনে রানী বেগম (৬০) নামের এক নারী ধাত্রী এগিয়ে আসেন। পরবর্তীতে ছুটে আসেন আরো একজন নার্স (সেবিকা)। তাদের দুইজনের সহায়তায় নিরাপদে ছেলে সন্তান প্রসব করেন প্রসূতি ঝুমুর বেগম।
ধাত্রী রানী বেগম বরিশাল নগরীর সাগরদী এলাকায় বাসিন্দা। কয়েকদিন পূর্বে তিনি ঢাকায় মেয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে মেয়েকে নিয়ে রানী বেগম বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার সদরঘাট থেকে এমভি আওলাদ-১০ লঞ্চে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
রানী বেগম আরো বলেন, ধাত্রী পেশায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বুঝতে পারি কিছুসময়ের মধ্যেই ঝুমুরের সন্তান ভূমিষ্ট হতে যাচ্ছে। তাই লঞ্চের স্টাফদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস নিয়ে নিরাপদে সন্তান প্রসব করানোর কাজে লেগে যাই। কিছু সময়ের চেষ্টায় সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে ঝুমুর বেগমের শিশু সন্তানটি নিরাপদে ভূমিষ্ট হয়।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।