দূরত্ব কখনো রক্তের সম্পর্কে ছেদ ঘটাতে পারে না। স্বীয় বংশধরদের সন্ধানে দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়ানোর ইতিহাস বিরল নয়। কিন্তু মাত্র ১৪০ কিমি দূরত্বে বসবাসকারী বংশধর স্বজনদের সাথে দেখা সাক্ষাতের ব্যবধান ৬৮ বছর সত্যিই পীড়াদায়ক।
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও গ্রামে ফকির পরিবার এবং সরকার পরিবার নামক পারিবারিক পরিচয়ে একদল জনগোষ্ঠীর বসবাস ইংরেজ আমল থেকে।
জানা যায় প্রায় ২০০ বছর বা তারও বেশি সময় পূর্বে একদল লোক উক্ত বংশ থেকে সপরিবারে কিশোরগঞ্জের ইটনা থানার অন্তর্গত চৌগাংগা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামে চলে যান।
সেখানে তারা বসতি গড়ে তুলে যুগের পর যুগ বংশ পরম্পরায় বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে সেখানে উক্ত বংশের প্রায় ১৫০০ লোক বসবাস করছেন।নান্দাইলে আচারগাঁও, দশালিয়া, রাঙ্গামাটি গ্রামে এ বংশের আরো প্রায় ১২০০ লোকের বসবাস রয়েছে।
আচারগাঁও নিবাসী মরহুম জাফর ফকির, জনব আলী সরকার এবং চন্দ্রপুর নিবাসী মরহুম আবুল হোসেন সরকার, কাবিল হোসেন, ডেঙ্গু মিয়া প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ জীবিত থাকাকালে প্রায় ৬৮ বছর পূর্বে উভয় স্থানের বংশধরদের মধ্যে কিছুটা যোগাযোগ ছিল। কালের বিবর্তনে বর্তমান সময়ে এসে দুই স্থানের বংশধরেরা কেউ কাউকে চেনে না।
শুধু পূর্বপুরুষদের কাছে শুনে এসেছেন উক্ত স্থানগুলোতে তাদের বংশধরদের বসবাস রয়েছে। গত ২৭ মে ২০২২ চন্দ্রপুর থেকে যুবলীগ নেতা মোঃ ফারুক আহমেদ, এবং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ রতন মিয়ার নেতৃত্বে ২২ জন সদস্যের একটি টিম মাইক্রোবাসযোগে নান্দাইলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন বংশধরদের সন্ধানে।
সারাদিন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখোঁজির পর সন্ধ্যার দিকে বংশধরদের সন্ধান পান। রক্তের বাঁধনে জড়িত বংশধরদের সন্ধান পেয়ে তারা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।
আবেগ আপ্লুত হয়ে রতন মেম্বার(৬৫) জানান, ‘ আমরা আর ভুল করবো না। এখন থেকে নিয়মিত আসা-যাওয়ার মাধ্যমে আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখবো।
আচারগাঁও গ্রামে বসবাসকারী আহাম্মদ হোসেন ফকির (৭০)বলেন -‘ বংশধর ভাই ভাতিজাদের ফিরে যে আনন্দ আমরা পেয়েছি তা বিয়ে কিংবা ঈদের আনন্দের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। ‘
#CBALO/আপন ইসলাম