টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার বোয়ালি গ্রামে শিক্ষিত যুবক মানিক আল মামুন । ইউটিউব দেখে শখের বসে নিজের ৫৫ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে ড্রাগন কিং জাতের তরমুজ গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চার সপ্তাহ পর তাতে অভাবনীয় ফলন আসায় খুশি এ যুবক।
মাস খানেক প্রতিটি গাছ থেকে ২-৩টি করে তরমুজ সংগ্রহ করা যায়। বর্তমানে তার এ ক্ষেতে ৪ হাজারেরও বেশি তরমুজ ধরে আছে। মাত্র সাত- আট সপ্তাহে পরিপক্ব হওয়ায় গাছ থেকে ফল সংগ্রহ শুরু করেছেন তিনি। খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি তরমুজ ২০০ থেকে আড়াই শ’ টাকা বিক্রি করে ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তিনি।
মানিক আল মামুন , মোট খরচ হচ্ছে এক লক্ষ বিশ হাজার থেকে এক লাখ টাকার মতো। এখানে আমার ৪ হাজারের ওপরে ফল এসেছে। খুচরা আড়াইশ’, থেকে চারশ’ টাকা পর্যন্তও বিক্রি করছি। সেক্ষেত্রে আমি গড়ে ১২০ টাকা পিস ধরেছি। তাকে এখান থেকে আমার আয় ৪ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।
মানিক আল মামুন এর ভাগ্নে তোফাজ্জল হোসেন বলেন, এখানে আমরা কীটনাশক ব্যবহার করিনি। আমরা জাল ফাঁদ পেতে পোকামাকড় দমন করেছি।
বর্ষাকালীন ড্রাগন কিং জাতের এ তরমুজ চাষে অভাবনীয় সাফল্য দেখে আগ্রহী হয়ে উঠছেন স্থানীয় বেকার যুবকরা। তারা বলছেন, এ ক্ষেত দেখে খুব ভালো লাগছে। যারা বেকার যুবক আছেন, তারা যদি তরমুজ চাষ করেন, তবে সহজেই তাদের বেকারত্ব দূর হবে। এটা দেখে এখন আমাদের চিন্তাভাবনা আছে, সামনে আমরাও এমন একটা ক্ষেত করব।
এদিকে, এ ফল চাষে আগ্রহীদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
সখিপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বলেন, তারা যদি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তবে আমরা প্রযুক্তিগত সব ধরনের সহযোগিতা তাদের দেব। যাতে করে তারা তরমুজ আবাদ করে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে তাদের বেকারত্ব দূর করতে পারে।
নিরাপদ এই ফল উৎপাদনে কোনো কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। পোকা দমনে ব্যবহার করা হয় আলোর ফাঁদ ও পারচিং পদ্ধতি। বেকারত্ব দূর করতে তরমুজ চাষে জেলার শিক্ষিত যুবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়াসহ সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
#CBALO/আপন ইসলাম