আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা গাইবান্ধার বিশিষ্ট জুতা ব্যাবসায়ী হাসান আলী হত্যার এক বছর পুর্তিতে হাসান হত্যার প্রতিবাদ মঞ্চের আয়োজনে আজ ১০ এপ্রিল রবিবার সকাল ১১টায় জেলা নাট্য সংস্থার মিলনায়তনে মঞ্চের সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম গোলাপের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। গাইবান্ধা জেলা কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি মোস্তফা মনিরুজ্জামানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সিপিবি জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারন সম্পাদক মিহির ঘোষ, জেলা জাসদ সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মারুফ মনা, গণফোরাম সভাপতি ময়নুল ইসলাম রাজা, জাসদের সাধারন সম্পাদক জিয়াউল হক জনি, জেলা বার এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, মহিলা পরিষদের সাধারন সম্পাদক রিক্তু প্রসাদ, বাসদের আবু রাহেল, সাম্যবাদী আন্দোলনের মঞ্জুরুল আলম মিঠু, ওয়ার্কার্স পার্টির মৃনাল কান্তি শ্রমিক জোটের নুর মোঃ বাবু, সিপিবির গোলাম রব্বানী মুসা, জাসদ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ফিরোজ কবির রানা , ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ওয়ারেছ মিয়া ও ছাত্র কাউন্সিলের মিনা বেগম, নিহত ব্যবসায়ি হাসানের স্ত্রী বিথি বেগম প্রমুখ। বক্তারা হাসান হত্যার ন্যায়সংগত বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এসময় স্বামীর হত্যার ন্যায়বিচার কামনা করেন নিহত ব্যবসায়ি হাসানের স্ত্রী বিথি বেগম। উল্লেখ্য, চলমান বছরের গত ৫ মার্চ জুতা ব্যবসায়ী হাসান আলীকে অপহরণ করে গাইবান্ধা জেলা আওয়ামীলীগ উপ-দপ্তর সম্পাদক মাসুদ রানা। এরপর তাকে উদ্ধারের দাবিতে হাসানের স্ত্রী বিথী বেগম থানায় অভিযোগ করলে মাসুদের বাড়ি থেকে উদ্ধারের পর অপহৃত ব্যবসায়ী হাসান আলীকে আবারও অপহরণকারী মাসুদের জিম্মায় দেয় সদর থানা পুলিশ। টানা একমাস মাসুদের বাড়িতে আটক অবস্থায় থাকার পর গত ১০ এপ্রিল শনিবার মাসুদের বাড়ির টয়লেট থেকে ব্যবসায়ী হাসান আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর আগে মোবাইল থেকে ক্ষুদে বার্তায় হাসান আলী স্বজনদের জানান মাসুদ রানা তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করে এবং থানায় পুলিশের উপস্থিতিতে তার কাছ থেকে মিথ্যা অঙ্গীকার নেয়। ওই দিনই মাসুদকে আটক করে পুলিশ। পরদিন দলীয় পদ থেকে রোববার মাসুদকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বিথী বেগম বাদী হয়ে মাসুদ রানা, রুমেন হক খলিলুর রহমান বাবুকে আসামি করে সদর থানার দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ এনে সদর থানায় মামলায় করেন। ওই মামলায় মাসুদ রানাকে গ্রেফতার দেখিয়ে চারদিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। অন্যদিকে ব্যবসায়ী হাসান আলীকে উদ্ধারের পর থানা থেকে অপহরণকারী মাসুদ রানার হাতে তুলে দেয়ার ঘটনায় পুলিশের সম্পৃক্ততা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাহাত গাওহারীকে আহবায়ক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খায়ের ও পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল লতিফকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করেন পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। ওই কমিটি তদন্ত শেষে ২০ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ঘটনার পরপরই হাসান আলী হত্যার বিচার দাবীতে ফুঁসে ওঠে গাইবান্ধার সর্বস্তরের মানুষ। মানববন্ধন, বিক্ষোভ, স্মারকলিপিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখে রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা। গঠন করা হয় হাসান হত্যা প্রতিবাদ মঞ্চ। এ মঞ্চের উদ্যোগে ব্যবসায়ি হাসান আলী হত্যার বিচার দায়িত্বে অবহেলার জন্য সদর থানার ওসি মাহাফুজার রহমানকে অপসারণ ও ৪ দফা দাবীতে আন্দোলন চলমান রয়েছে। এ দাবীতে আন্দোলন চলমান থাকার পরেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি বরাবরে দাবী সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করে। চলমান আন্দোলনের অংশ হিসাবে আগামী ১০ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা হতে দুপুর ২ টা পর্যন্ত হরতাল পালন করে হাসান হত্যার প্রতিবাদী মঞ্চ । আন্দোলনের ফলে ওসি মাহফুজ অপসারণ হয়। এরপর মামলা হতে আসামীদের নাম কর্তনে দূর্নীতির অডিও ফাঁস হয় এ অবস্থার মধ্যে বর্তমানে মুল আসামী জামিনে মুক্ত আর সহযোগী ২ আসামী কারাগারে রয়েছে বলে জানা যায়।
#চলনবিলের আলো / আপন