মঙ্গলবার , ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - শীতকাল || ২২শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

নান্দাইলে একজন মাঠ কর্মকর্তা দিয়ে চলছে কৃষি সেবা

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল, ২০২২
নান্দাইলে একজন মাঠ কর্মকর্তা
দিয়ে চলছে কৃষি সেবা ॥ 
[ মাঠ পর্যায়ে দেখা যায় না দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য ২জনকে]
[ কৃষক-কৃষাণীদের ক্ষোভ : মুখ থুবড়ে পড়ছে কৃষি উন্নয়ন ]
কৃষি নির্ভরশীল দেশ বাংলাদেশ। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কৃষি খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। কিন্তু ময়মনসিংহের নান্দাইলে দেখা দিয়েছে এর উল্টো। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের কাছে না গিয়ে কোন ধরনের সেবা প্রদান ব্যতিরেখেই নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছেন দুজন উপ-সহকারী কৃষি (মাঠ) কর্মকর্তা। কর্মকর্তাদের অবহেলায় কৃষি খাতে উন্নয়ন প্রতিনিয়ত বাধা গ্রস্থ হচ্ছে। বর্তমানে নান্দাইল উপজেলার ৫নং গাংগাইল ইউনিয়নে মাত্র একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিয়ে চলছে কৃষি সেবা কাজ। এতে করে কৃষক-কৃষাণীরা কৃষি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাচ্ছেনা- যথোপযুক্ত পূর্ণাঙ্গ সেবা। জানাগেছে, গাংগাইল ইউনিয়নের জনগণ তিনটি ব্লকে কৃষি সেবা পাওয়ার কথা। তন্মেধ্যে সুন্দাইল, শাইলধরা ও পংকরহাটি এই তিনটি কৃষি ব্লকের দায়িত্বে রয়েছে যথাক্রমে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (মাঠ) রহিমা খাতুন, রজিফা খাতুন ও এনামুল হক খান। কিন্তু শুধুমাত্র উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হক খান নিজের ব্লকে কাজ করার পরেও জনগণের প্রয়োজনে বাকী দুটি ব্লকে কোনমতে কৃষি সেবা প্রদান করতে দেখা গেছে। একাধিক সুত্রে জানাগেছে, রহিমা খাতুন ২০০৪ সালে নান্দাইলে চাকুরী যোগদান করেন। এরপর থেকে তাকে মাঠে দেখতে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তিনি এট্যাাচমেন্টে ময়মনসিংহ সদরে দায়িত্বে পালন করলেও নিয়মিত বেতন ভাতা ঠিকেই নান্দাইল থেকে উত্তোলন করে যাচ্ছেন। অপরদিকে রজিফা খাতুন চন্ডিপাশা ইউনিয়নের বাশঁহাটি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি (মাঠ) কর্মকর্তা কামাল হোসেন এর স্ত্রী। তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত ছুটি কাটিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া তিনি ২০০৮ সালে যোগদান করলেও যোগদানের পর থেকে কৃষক-কৃষাণীদের চোখে একবারও পড়তে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে এলাকার সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ ও কৃষক-কৃষাণীরা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একজন মাঠ কর্মকর্তার মাধ্যমে সমগ্র গাংগাইল ইউনিয়নে কৃষি সেবা প্রদান সম্ভব নয়। ফলে প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়ায় সুন্দাইল ও শাইলধরা ব্লকে কৃষি খাতে উন্নয়ন যেন মুখ থুবড়ে পড়েছে। কৃষককের মুখে মুখে উঠছে নানা ধরনের অভিযোগ। উক্ত দুই ব্লকের কয়েকজন কৃষক জানান, রহিমা খাতুন ও রজিফা খাতুন মাঠ কর্মকর্তাদ্বয়কে কোন দিন তারা মাঠে দেখেনি। সুন্দাইল ব্লকের কৃষক বাচ্চু মিয়া বলেন, আমাদের ব্লকে যিনি কৃষি উপসহকারী মাঠ কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন রহিমা খাতুন,তাকে আনুমানিক ০৬ বৎসর এর মধ্যে কোনদিন মাঠে দেখেনি। আমরা প্রয়োজনে উপ-সহকারী এনামুল হক খানকে ফোন দিলে তিনি মাঝে মাঝে উনার ব্লক ফেলে আমাদেরকে সেবা দিতে আসেন। এভাবে সেবা নেওয়া সম্ভবপর নয়। ফলে আমাদের ব্লকের কৃষকরা উপযুক্ত কৃষি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক শাইলধরা ব্লকের কয়েকজন কৃষক জানান, রজিফা খাতুনকে আমরা মাঠ পর্যায়ে কোন সময় পায়নি। উপ-সহকারী কৃষি (মাঠ) কর্মকর্তা এনামুল হক খান এ বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি নন। তবে তিনি তার সাধ্যমত জনগণকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন মাত্র। এ দিকে অভিযুক্ত মাঠ কর্মকর্তা রহিমা ও রজিফা খাতুন উভয়ের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, রজিফা খাতুন মাতৃত্বকালীন ছয় মাসের ছুটিতে রয়েছেন। শীঘ্র তিনি কাজে যোগদান করবেন। অপরদিকে রহিমা খাতুন এট্যাচমেন্টে ময়মনসিংহ সদরে দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানান এবং রহিমা খাতুন নান্দাইল থেকে বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন বলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

 

#চলনবিলের আলো / আপন

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।