মঙ্গলবার , ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - শীতকাল || ২২শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

তরমুজ কেনা পিস হিসেবে, বিক্রি হচ্ছে কেজিতে

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৩১ মার্চ, ২০২২

বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ, রূপাতলী, বাংলাবাজার, পোর্টরোড, নতুন বাজার, কাশিপুরসহ জেলার আগৈলঝাড়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় অধিকাংশ বাজার ঘুরে দেখা গেছে গত বছরের মতো এবছরও কেজি দরে তরমুজ বিক্রি চলছে দেদারছে। শুধু বিভিন্ন বাজারেই নয়; পাড়া ও মহল্লায় ভ্যান গাড়িতে ফেরি করেও কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে মৌসুমী রসালো ফল তরমুজ।
নগরীর পোর্ট রোডের একটি দোকানে তরমুজ ক্রয় করতে আসা ক্রেতা তানভির আহম্মেদ অভি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি তরমুজ উৎপাদিত হয়। অথচ সেই অঞ্চলে যদি এতো দাম হয়, তাহলে দেশের অন্যস্থানে তরমুজ সোনার হরিণে রূপ নিবে। এজন্য জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের এখন থেকেই মাঠপর্যায়ে অভিযানে নামার জন্য তিনি (অভি) অনুরোধ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর পোর্ট রোডের পাইকারী আড়তে তরমুজ বিক্রি করতে আসা একাধিক কৃষকরা বলেন, চলতি মৌসুমে চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি তরমুজ উৎপাদিত হলেও খুচরা বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে বাজারে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। এরপর অস্থির করে তোলা হচ্ছে মৌসুমি এই ফলের বাজার। ফলে কম আয়ের ক্রেতারা তরমুজ ভোগ করতে পারেন না। কৃষকরা আরও বলেন, ছয় থেকে সাত কেজি ওজনের একটি তরমুজ পাইকারী দামে সর্বোচ্চ ১২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ খুচরা বিক্রেতারা সেটি যখন ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন তখন তরমুজটির দাম হয় পাঁচশ’ টাকার কাছাকাছি। আগৈলঝাড়া উপজেলায় সদরেও কয়েতটি দোকান মিলে একটি সিন্ডিকেট করে কেজি দরে বিক্রি করছে তরমুজ। যে দোকান থেকেই ক্রেতা তরমুজ কিনছে সে ওই সিন্ডিকেট ব্যবসায়িদের কবলেই পরছে।

নগরীর চৌমাথা বাজারে তরমুজ ক্রয় করতে আসা ক্রেতা মোঃ আফসার উদ্দিন মৃধা বলেন, কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করা ক্রেতা ঠকানোর একটি কৌশল। ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করে সহজে বেশি টাকা আয় করতেই বিক্রেতারা এমন ফাঁদ পেতেছেন। ক্রেতাদের এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও চৌমাথা বাজারের তরমুজ বিক্রেতা শাহাদাত হোসেন বলেন, অনেকে কেজি দরে বিক্রি করলেও আমি পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রি করছি। তার (শাহাদাত) কথাকে ক্রেতা আফসার উদ্দিন মৃধা চ্যালেঞ্জ করতেই শাহাদাত স্বীকার করে বলেন, ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে আমিও তরমুজ বিক্রি করছি।
ওই তরমুজ বিক্রেতা আরও বলেন, কেজিতে তরমুজ বিক্রি করলে ক্রেতাদের সাথে কথা কম বলে বেশি লাভ করা যায়। একটি তরমুজ ১৩০ টাকায় ক্রয় করা হলেও কেজি দরে বিক্রি করলে কমপক্ষে ২৫০ টাকায় বিক্রি করা যায়। পিস হিসেবে বিক্রি করতে গেলে ১৩০ টাকার তরমুজ ক্রেতারা ১০০ টাকাও দাম বলেন না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি বরিশালের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক তাওফিকুল আলম বলেন, চলতি মৌসুমে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ৪৬ হাজার ৪৫১ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। যা গত মৌসুমের চেয়ে ১১ হাজার ৭৬৩ হেক্টর বেশি। চলতি মৌসুমে সবচেয়ে বেশি তরমুজ চাষ হয়েছে পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলা জেলায়।

নগরীর পোর্ট রোডের ঘাটে ট্রলার ভর্তি করে পাইকারী মূল্যে তরমুজ বিক্রি করতে আসা পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী এলাকার তরমুজচাষী নান্না গাজী বলেন, আমরা আড়তে শতক হিসেবে তরমুজ বিক্রি করছি। কিন্তু খুচরা বাজারে বিক্রেতারা অধিকমুনাফার লোভে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করে ক্রেতাদের সাথে প্রতারনা করছেন।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম বলেন, বাজারে তরমুজ উঠতে শুরু করেছে। কৃষকরা তরমুজ শতক হিসেবে বিক্রি করেছেন। কোনো খুচরা বিক্রেতা যেন ক্রেতাদের সাথে প্রতারনা করে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করতে না পারেন সেজন্য খুব শীঘ্রই অভিযান শুরু করা হবে। তবে প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন বাজারে বিক্রেতাদের কেজি দরে তরমুজ বিক্রি না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

 

 

#চলনবিলের আলো / আপন

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।