মঙ্গলবার , ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - শীতকাল || ২২শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

নাগরপুরে কালের সাক্ষী ছনের ঘড়

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ১৫ মার্চ, ২০২২
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার নলসন্ধ্যা গ্রামের মৃত বেল্লাল মিয়ার বাড়িতে কালের সাক্ষী হয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে একটি ছনের ঘড়।
উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের নলসন্ধ্যা গ্রামে মো. নুর মোহাম্মদ মিয়া(৩৫), পিতা মৃত বেল্লাল মিয়ার বাড়িতে একটি ছনের ঘড় দেখা যায়।
মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বিশ্বের মাঝে পরিচিতি লাভ করলেও বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য কথা বলে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশ স্বাধীনের পূর্ব হতেই এদেশের শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষই ছিল সৌখিন গরীব, তৎকালীন সময়ে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই ছিল ছনের ঘর। পাশাপাশি উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের থাকার জন্য ছিল টিনের ঘর, ছনের ঘর গুলো ছিল যেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। অতি গরমে যেমন, ঠান্ডা ও আরামদায়ক তেমনি শীতের দিনে ছিল উষ্ণ গরম।
সরেজমিন, নলসন্দা গ্রামের নুর মোহাম্মদ(৩৫) জানান, এই ঘরটি আমার দাদার আমলের তৈরি করা। আমার বাবা জীবিত থাকতে ঘরের মেরামতি করেন। আমার বাবা ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে মারা যাওয়ার পর আমরা আর এই ঘরের মেরামতির জন্য কারিগর বা কামলা পাচ্ছি না, বিধায় দাদা এবং বাবার স্মৃতি রক্ষার্থে এই পর্যন্ত ঘরের খাম বদল করে ঘড়টি ব্যবহার করার উপযোগী রেখেছি। এখন আর আগের মতো ছন ও কারিগর পাওয়া যায় না, তাছাড়া এই ঘর ছাউনি দেওয়ার মতো কারিগর নেই বললেই চলে। বাধ্য হয়েই কালের সাক্ষী দাদার আমলের ঘড় বিলীন হতে বসেছে।
উপজেলার ঘিওরকোল গ্রামের সামছুল তালুকদার ও সদর ইউনিয়ন এর ৯০ বছর বয়সী মো. কিসমত বেপারী বলেন, ছনের ঘর গ্রামীণ ঐতিহ্য যা আজ বিলুপ্তির পথে। শীত ও গরম উভয় মৌসুমে আরামদায়ক ছিল ছনের ছাউনির ঘর।বিশেষ কায়দায় ছনকে সাজিয়ে কয়েকটি ধাপের মাধ্যমে ছাউনি দেয়া হতো।সাধারণত বন্যা, ভূমিকম্প, ঝড় কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এসব ঘর বছরের পর বছর পর্যন্ত টিকে থাকতো।
তাছাড়া স্থানীয় নির্বাচনে ছিল এই কুঁড়েঘর মার্কা। জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন হয়েছে, ফলে পাকা দেয়াল, টিনের বেড়া ও চাউনি দিয়ে ঘর তৈরির রেওয়াজ বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, ছনের ঘর না থাকায় মানুষ অসুস্থ হচ্ছে বেশী কারন মানুষ প্রাকৃতিক বাতাস ও আবহাওয়া থেকে অনেক দুরে। সারাক্ষণ এসি ও বৈদ্যুতিক পাখা ব্যবহার করে আসছে। আগামী প্রজন্মের কাছে রূপকথা হয়ে থাকবে ছনের ঘর বা কুঁড়েঘর।
অগ্নিবীণা আইডিয়াল কলেজের সিনিয়র প্রভাষক মো.আজিজুর রহমান বলেন-গরিবের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর হচ্ছে ছনের ঘর। গ্রামের হতদরিদ্র, দরিদ্র কিংবা মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর একমাত্র আশ্রয় ছিল ছনের ঘর। বাঁশের খুঁটি এবং চাটাই কিংবা বাঁশের শলাকা দিয়ে তৈরি দোচালা বা চারচালা ঘরের ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করা হতো ছন। দুই বা তিন যুগ আগেও গ্রামবাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা মিলত ছনের ঘর। বর্তমানে ছনের ঘর নাই বললেই চলে। বাংলার ঐতিহ্যর সাথে এই ছনের ঘর খুব নিবিড়। নতুন প্রজম্মের সাথে এই ছনের ঘরের ঐতিহ্য পরিচিতি  করতে চাইলে ছনের ঘর বিষয়ে(কুঁড়েঘর)  পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এছাড়াও এর ব্যপক প্রচার এর জন্য সাংবাদিক বন্ধুদের ছন ঘরের উপর প্রতিবেদন প্রকাশ করার জন্য অনুরোধ রইলো। 

 

#চলনবিলের আলো / আপন

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।