সোমবার , ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৬শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - শীতকাল || ২১শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

আগৈলঝাড়ায় ১৫৫৪পিচ থ্রি নট থ্রি রাইফেলের গুলি উদ্ধার

প্রকাশিত হয়েছে- শুক্রবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় শুক্রবার সকালে ১৫৫৪পিচ থ্রি নট থ্রি রাইফেলের গুলি উদ্ধার হয়েছে। সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে বিপুল পরিমান গুলি উদ্ধারের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল হাশেম, ওসি মাজহারুল ইসলাম, গৈলা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল হোসেন টিটুসহ অন্যান্যরা ঘটনাস্থালে উপস্থিত হন। উদ্ধারকৃত ১৫৫৪পিচ গুলি থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। কৌতুহলে শিশুরা গুলি উদ্ধার করছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল হাশেম জানান- সরকারীভাবে ভূমিহীনদের বাড়ি নির্মাণের জন্য ২২ ফেব্রæয়ারি গৈলা ইউনিয়নের কালুপাড়া মৌজায় ৩০ শতক জায়গা ক্রয় করে সরকার। ওই জায়গায় ১৫টি পাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য ২৩ ফেব্রæয়ারি থেকে কাজ শুরু করে শ্রমিকেরা। শুক্রবার সকালে বাড়ির কাজের জন্য লে-আউট দিতে মাটি খনন করতে গিয়ে মাত্র এক-দেড় ফুট নীচে শ্রমিকেরা ওই গুলি দেখতে পেয়ে তা উদ্ধার করে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, ’৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে গৈলা ইউনিয়নের কালুপাড়া গ্রামের ওই স্থানে রাজাকার ক্যাম্প ছিল। ধারনা করা হচ্ছে দেশ স্বাধীনের পরবর্তি সময়ে রাজাকাররা এসব গুলি মাটির নীচে লুকিয়ে রাখে। যা মাটি খননের সময় পরিত্যাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। বাড়ি নির্মাণের কাজ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
গুলি উদ্ধারের খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি (তদন্ত) মো. মাজহারুল ইসলাম, এসআই মিজানুর রহমান, এসআই মিল্টন মন্ডলসহ সঙ্গীয় ফোর্সরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের উদ্ধার করা বন্দুকের গুলি তাদের হেফাজতে নেয় এবং জব্দ তালিকা তৈরী করেন।
ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান- পরিত্যাক্ত ও নিস্কৃয় অবস্থায় উদ্ধারকরা ১৫৫৪পিচ গুলি তাদের হেফাজতে নিয়েছেন। এই গুলিগুলো শক্তিশালি থ্রি নট থ্রি রাইফেল ও এলএমজি’তে ব্যবহার করা করা হয়। গুলিগুলো ৫টি করে প্রসেস অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে এগুলো অর্ধশত বছর আগে থেকে মাটির নীচে থাকায় মরিচা ধরে নিস্কৃয হয়ে গেছে। বিষয়টি জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। তাদের নির্দশনা অনুযায়ি পরবর্তি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, হিন্দু মালিকানাধীন ওই বাড়িটিতে স্থাপন করা হয় পিচ কমিটির ক্যাম্প। দেশ স্বাধীনের পরে স্থানীয় কিসমত সরদার দখল করে নেয়। পরে কিসমত সরদারের ছেলে পলাশ তাদের দখল করা বাড়িটি বিক্রি করে দেয়। সেখান থেকে হাত বদল হয়ে সোহরাব ও শাহ আলম নামের দুই ভাই এই জমির মালিকানা নিয়ে পায়। বর্তমানে এর একটি অংশ সরকার ক্রয় করে।
এদিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে খনন করা জায়গার মাটি থেকে কৌতুহলের কারণে গুলি উদ্ধার করতে দেখা গেছে স্থানীয় শিশুদের। সেখানে ছিল না কোন বিধি নিষেধ।
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধীরা দেশের মানুষের উপর নির্বিচারে যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তার নিদর্শন হিসেবে এই নিস্কৃয় গেলাবারুদ সরকারীভাবে জাদুঘরে সংরক্ষণের মাধ্যমে পরবর্তি প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন গৈলা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল হোসেন টিটু।

 

 

#চলনবিলের আলো / আপন

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।