টাঙ্গাইলের নাগরপুরে দপ্তিয়রের কান্দা পাচুরিয়া এলাকায় দীর্ঘ প্রতিক্ষিত সেতুর দুই পাশের সড়ক নির্মাণ করে চলাচল উপযোগী করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
“বিভিন্ন পত্রিকায় নাগরপুরে অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় চরম দূর্ভোগে জনগণ “দেড় বছরেও তৈরি হয়নি সেতুর দুই পাশে সড়ক” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর এক মাসের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সেতুর এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করে দিয়েছে এবং ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে সেতু ব্যবহার করে চলাচল করছে স্থানীয়রা। এতে ব্যাপক খুশি এলাকার বাসিন্দারা।
প্রতিবেদনকারী ও সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সকলকেই ধন্যবাদ জানিয়েছেন এলাকার ভুক্তভোগী জনগণ ও সুধীমহল।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজা মিয়াসহ অনেক সুবিধা ভোগী বলেন, আমাদের ব্যাপক কষ্টের অবসান হয়েছে। এখন সেতু ব্যবহার করে চলাচল করতে পেরে আমরা অনেক আনন্দিত। ধন্যবাদ জানাই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে। অনেক সময় পর হলেও পত্রিকায় সংবাদটি প্রকাশ হওয়ার পর দ্রুত কাজটি করার জন্য।
উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানায়, ওয়ার্ক অর্ডার করার পর দ্রুত সময়ে সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হয়। একটু দেরী হলেও সেতু এখন ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। অতিদ্রুত সেতুর বাকী অংশের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
ধুবড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান মো. মতিয়ার রহমান জানায়, আমি প্রথমেই নাগরপুর প্রতিনিধি মো. আমজাদ হোসেন রতনকে সেতুর দুর্ভোগ তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ জানাই, পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পত্রিকা ও নিবন্ধিত পোর্টালকে। এখন আমরা সেতুটি ব্যবহার করে অনেক আনন্দিত। পুরো মধ্য ধুবড়িয়ার যোগাযোগ এখন অনেক উন্নত হবে। বর্ষাকালে এই এলাকায় চলাচলে এখন আর দুর্ভোগ থাকবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতরের তত্বাবধানে কান্দা পাচুরিয়া শাখাওয়াত চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন স্থানে সেতু নির্মাণ হলেও প্রায় দেড় বছরেও তৈরি হয়নি সেতুর দুইপাশে চলাচলের সড়ক। ফলে এতদিন সেতু নির্মাণের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলো আশেপাশের অন্তত পাঁচ গ্রামের কয়েক হাজার জনগণ। বর্ষাকালে সড়ক প্লাবিত এবং বৃষ্টির দিনে সড়কে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ায় নাজেহাল অবস্থা বিরাজ করতো। ২০১৮-২০১৯ সালে প্রায় ১,৫৫,৬৯,৭৪৪.৭৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কান্দা পাচুরিয়া থেকে ধুবড়িয়া সদরে সরাসরি যাতায়াতে ১৫ মিটার আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণের কাজটি শুরু সুমন কুমার বণিক ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রায় ১ বছর পর ২০২১ সালে ওই সেতু নির্মাণের কাজ শেষ করে প্রতিষ্ঠানটি। অবশেষে ২০২২ সালে এসে সেতু ব্যবহারের এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়।
#চলনবিলের আলো / আপন