সোমবার , ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৬শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - শীতকাল || ২১শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

২০ বছর পর স্বামী সন্তান নিয়ে হারানো বাবা-মা’কে পেল বেবী

প্রকাশিত হয়েছে- শুক্রবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

মাত্র ৯ বছর বয়সে হারিয়ে যাওয়ার বেবী আক্তার ২০ বছর পর মা-বাবা ও স্বজনদের কাছে ফিরেছে বেবী আক্তার। রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের মেয়ে বেবী। পরিনত বয়সে বিয়ে-সংসার-সন্তানের মা হয়েছে। তবে বাবা-মা পরিবার হারানোর কষ্ট বুকে চেপে বছরের পর বছর পার করছিলেন মধ্যবয়সী এই নারী বেবী আক্তার।
বেবী জানায়, ২০০২ সালে আর্থিক অচ্ছলতার জন্য ঢাকার মিরপুরের এক বাসায় কাজের জন্য মেয়ে বেবীকে তার বাবা মা কাজে দেন। বেবী ওই পরিবারে দশ মাস কাজ করলেও নির্যাতনের কারনে সেখান থেকে পালিয়ে যায় বেবী। পরে মিরপুরের একটি রাস্তার পাশে কান্নার করে জীবিকা নির্বাহ করছিল।
বেবীর কান্না দেখে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম সরদারের মা শাহানুর বেগম তাকে নিয়ে বাড়ি আসেন। ওই সময় বেবী তার নাম ও উপজেলার নাম বলতে পারলেও বাবা মায়ের ঠিকানা বলতে জানাতে পারে নি।
বেবীর বাবা রফিজ মন্ডল জানান, আমরা গরীব পরিবারের লোক। দিন আনি দিন খাই। তিন মেয়ে এক ছেলে নিয়ে আমাদের পাঁচ জনের পরিবার। আর্থিক অচ্ছলতার জন্য আমার বড় মেয়ে বেবী আক্তারকে আমাদের দুর্গাপুর গ্রামের কামাল হোসেন সোহেল এর ঢাকার মিরপুরে বাসায় কাজের জন্য দেই। কামালের পরিবারের নির্যাতন করলেও মেয়ের সাথে কোন যোগাযোগ করতে দিত না তারা। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বেবী সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এক আত্মীয়র মাধ্যমে জানতে পারি বেবী নিখোজ রয়েছে। আমরা বেবী নিখোঁজের ঘটনায় দুর্গাপুর থানায় কামাল হোসেন সোহেলের নামে অভিযোগ দায়ের করি। পুলিশ ও আমরা একাধিক স্থানে আমার মেয়ে বেবীকে খুঁজেও তার সন্ধান পাইনি।
মেয়েকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত মা সুফিয়া বেগম জানান, ২০ বছর ধরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েকে পাওয়া যায়নি। ২০ বছর পর মেয়েকে ফিরে পাবেন, আশা ছিল না। তিনি আরও জানান, ২০ বছর পর মেয়েকে খুঁজে পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত।
জানা গেছে, বর্তমানে এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্বামী নিয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলার নগরবাড়ি গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে বেবীর সংসার। হারিয়ে যাবার পর আগৈলঝাড়া উপজেলার কালুপাড়া গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলী সরদার ও শাহানুর বেগমের বাড়িতে নিজের মেয়ের মত বড় হয়েছেন বেবী। ২০১৪ সালে বেবীকে বিয়ে দিয়েছেন তারা।
আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম সরদার বলেন, আমার মা শাহানুর বেগম ঢাকার এক আত্মীয়র বাসায় বিয়ে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। তখন রাস্তার পাশে কান্না করতে দেখে আমার মা বেবীর কাছে এগিয়ে গেলে তাকে জড়িয়ে ধরে বেবী তাকে তার সাথে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে। আমার মা বেবীর কাছে ঠিকানা জানতে চাইলে সে শুধু তার নাম এবং এলাকার কথা বলতে পারলেও আর কিছু বলতে পারেনি। মা বেবীকে আমাদের গ্রামের বাড়ি আগৈলঝাড়ার কালুপাড়া গ্রামে নিয়ে আসে। সেই থেকে বেবী আমাদের পরিবারের সন্তান হিসেবে বড় হয়। এমনকি বেবীর জাতীয় পরিচয়পত্রেও আমার বাবা মার নাম দেয়া হয়। আমরা আপন চার ভাই, দুই বোন এবং পরে বেবী আমাদের ছোট বোন হিসেবে তিন বোনের মর্যাদা পায়। আমার বড় দুই বোনকে বিয়ে দেয়ার সময় কোন অনুষ্ঠান করতে না পারলেও ছোট বোন বেবীকে অনেক বড় অনুষ্ঠান করে উপজেলার নগরবাড়ি গ্রামের ব্যবসায়ী সোহেল ফকিরের সাথে বিয়ে দেই। সোহেল ও বেবীর সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
বেবী আক্তার বলেন, কোনো দিন ভাবতেও পারিনি, বাবা-মাকে আবার ফিরে পাবো। আমার একটাই চাওয়া ছিল জীবনে মা-বাবাকে যেন একবার হলেও দেখতে পারি।
বেবী আক্তার আরও জানান, আমার বাসার ছেলে মেয়ের গৃহ শিক্ষক নগরবাড়ি গ্রামের শাহাদাৎ খলিফার স্ত্রী পারভীন বেগম তার কলেজ জীবনের এক সহপাঠি রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলামকে আমার হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা খুলে বললে আমিনুল দুর্গাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান লতিফ হোসেনের ভাই শহিদুল ইসলামের মাধ্যমে তার বাবা মাকে খুঁজে বের করে। বেবীর সাথে তার বাবা মায়ের ফোনে কথা হলে তারা নিশ্চিত হয় হারিয়ে যাওয়া মেয়েই তাদের বেবী।

 

 

#চলনবিলের আলো / আপন

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।