খাগড়াছড়ির বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা চেন্দাউ মার্মা। মুক্তিযুদ্ধের পর যিনি সমাজচ্যুত হয়ে পাহাড়ে একাকী জীবন কাটিয়েছেন। এই বীর নারীর জীবনের সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে নাটক ‘বীর নারী পাহাড়িয়া’। নাটকটি রচনা করেছেন নাসরীন মুস্তাফা।
প্রযোজনা করেছেন মাহফুজা আক্তার। বাংলাদেশ টেলিভিশনে আজ রাত ৯টায় নাটকটি প্রচার হবে।
অভিনয় করেছেন নুশৈহ্লা মার্মা, ডয়ইউ মার্মা, পবন দাস, ছিমাপ্রু মার্মা, সাফোচিং মার্মা, উথ্যাইসিং মার্মা, সাথোয়াইচিং, ক্যাসামাং, রফিকুল ইসলাম, মুনমুন খান, চৈতি মল্লিক, মহিউদ্দিন হোসেন, অঞ্জন বাড়ে, মেহেদি হাসান শুভ ও ফরিদা ইয়াসমিন। নাটকের গল্পে দেখা যাবে, বিশ^বিদ্যালয় পড়ুয়া তিন তরুণ পাহাড় জয়ের নেশায় ছুটে যান পাহাড়ি গ্রামে। সেখানে গিয়ে পাহাড়ি তরুণ বাবু মার্মাকে গাইড হিসেবে নিতে চান। কিন্তু বাবু মার্মা রাজি হন না। জঙ্গলে নাকি মায়াদেবী বাস করে এমন ভয় দেখিয়ে তাদেরকে জঙ্গলে যেতে নিষেধ করেন কিন্তু তরুণরা তবুও রওনা হন। বাবুর সঙ্গে তরুণদের কথোপকথন শুনে ফেলেন গ্রামের বয়স্ক লোক খুই মং প্রু। একপর্যায়ে জঙ্গলে গিয়ে তারা মানুষের চলাচলের আভাস পান।
ওদেরকে ভয় দেখাতে খুই মং প্রু সামনে এলে জানা যায় আসল সত্য! মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সৈন্যরা পাহাড়ি গ্রামে এলে ওই গ্রামের চেয়ারম্যান তাদের হাতে সুন্দরী নারী চেন্দাউ মার্মাকে তুলে দেয়। গ্রামের আর কোনো নারীকে ধরে আনবে না, নিজের সম্ভ্রমের বিনিময়ে চেন্দাউ পাকিস্তানি মেজরের কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতি আদায় করে নেন। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর চেন্দাউ গ্রামে ফিরে এলে সমাজ ও তার আপনজনরা তাকে গ্রহণ করে না। বাধ্য হয়ে তিনি আশ্রয় নেন পাহাড়ে। স্বাধীনতাযুদ্ধে এই নারীর অবদানের কথা জেনে তরুণদের মাথা নত হয়ে আসে।
#চলনবিলের আলো / আপন