শনিবার , ১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ২৫শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সন্তান জন্ম দেয়ার এতো দরকার কেন : তসলিমা নাসরিন

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২২

তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশের একজন বহুল আলোচিত ও সমালোচিত নারী সাহিত্যিক। বরাবরই নারী স্বাধীনতা বা নারী বিষয়ক বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের মন্তব্য পেশ করে আলাচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি অভিনেত্রী পরীমণির মা হওয়ার খবর সামনে আসতেই নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। সেখানে প্রথমেই তসলিমা নাসরিনের প্রশ্ন, ‘সন্তান জন্ম দেওয়ার এত দরকার কেন?’।

পুরো স্ট্যাটাসে তসলিমা নাসরিন পরীমণির নাম উল্লেখ করেননি কোথাও। তবে পরীমণির মা হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পরই তার এই স্ট্যাটাস ইঙ্গিত দেয়, তিনি অভিনেত্রীর উদ্দেশ্যেই লিখেছেন নিজের মন্তব্য।

নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তসলিমা নাসরিন লেখেন-

সন্তান জন্ম দেওয়ার এত দরকার কেন? মেয়েরা, এমনকী প্রতিষ্ঠিত, সমাজের নানা নিয়ম ভেঙে ফেলা সাহসী মেয়েরাও, তিরিশ পার হলেই সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। এই ব্যাকুলতা কতটা নিজের জন্য, কতটা পুরুষতান্ত্রিক রীতিনীতি মানার জন্য? আমি কিন্তু মনে করি নিজের জন্য নয়, মেয়েরা সন্তান জন্ম দিতে চায় সমাজের দশটা লোকের জন্য। বাল্যকাল থেকে শুনে আসা শিখে আসা ‘মাতৃত্বেই নারীজন্মের সার্থকতা’ জাতীয় বাকোয়াজ মস্তিস্কে কিলবিল করে বলেই মনে করে ইচ্ছেটা বুঝি নিজের।

ইচ্ছা করলেই মানুষ সন্তান জন্মদান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, সন্তান জন্ম দেওয়ার ইচ্ছে মানুষের ভেতর আপনাতেই জন্ম নেয় না, জন্ম দেওয়ার প্রক্রিয়াটি প্রাকৃতিকভাবে সম্পন্নও হয়ে যায় না। মানুষ ইচ্ছে করলেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, লাগাম টেনে ধরতে পারে গর্ভধারণের যাবতীয় বিষয়াদির। এখানেই পশুর সঙ্গে মানুষের পার্থক্য। মানুষ ভাবতে পারে, সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সন্তান জন্ম দেওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে।

যারা তাদের জীবনে মূল্যবান কাজ করছে, অহেতুক শিশু জন্ম দিয়ে কাজের সময় নষ্ট করা তাদের উচিত নয় বলে মনে করেন এই নারী সাহিত্যিক। তার মতে, সন্তান লালন-পালনেই ব্যয় হয়ে যায় জীবনের অনেকটা সময়। নিজেকে যারা ভালোবাসে না, তারাই হয়তো জীবনকে মূল্যহীন করতে দ্বিধা করে না। আর যারা মনে করে বৃদ্ধ বয়সে তাদের দেখভাল করবে সন্তানেরা, তাই সন্তান জন্ম দেওয়া জরুরি, তারা নিতান্তই দুষ্টবুদ্ধির লোক, সন্তানের ঘাড়ে চড়ার বদ উদ্দেশ্য নিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরিকল্পনা করে।

তিনি আরও লেখেন, আর এমন তো নয় যে এই গ্রহে মানুষ নামক প্রাণীর এতো অভাব যে অচিরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে এই প্রজাতি। বিলুপ্ত হওয়া থেকে প্রজাতিটিকে যে করেই হোক বাঁচাতে হবে! বাঁচানোর দায়ই বা কেনো আমাদের নিতে হবে!

পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮০০ কোটি। এত ভিড়ের পৃথিবীতে আপাতত কোনো নতুন জন্ম কাঙ্খিত হওয়ার কথা নয়। কিন্তু মেয়েরা যদি ভেবে নেয় জন্ম না দিলে তাদের জীবনের কোনো অর্থ নেই, তাহলে তারা যে ভুল তা তাদের বোঝাবে কে!

সন্তানের জন্ম তারা দিতেই পারে যদি এমনই তীব্র তাদের আকাঙ্খা, তারপরও এ কথা ঠিক নয় জন্ম না দিলে তাদের জীবনের কোনও অর্থ নেই। কোনও কোনও মানুষ তাদের জীবনকে শখ করে অর্থহীন করে। তাছাড়া কারও জীবনই অর্থহীন নয়, বরং যে ভ্রুণ আজও জন্মায়নি সে ভ্রুণ অর্থহীন। পৃথিবীর প্রচুর শিক্ষিত, স্বনির্ভর, সচেতন মেয়ে বিয়ে করেনি, সন্তান জন্মও দেয়নি।

 

 

#চলনবিলের আলো / আপন

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।