রবিবার , ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৫শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - শীতকাল || ২০শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

নাগরপুরে মৃৎশিল্পিরা হতাশাগ্রস্থ ; নেই কোন কাজের চাপ

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২২
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে মৃৎশিল্পগুলো হারিয়ে যাওয়ার পথে। মৃৎশিল্পীরা হতাশাগ্রস্ত বললেন ” ভালো নেই আমরা ” কাচা মাটিতে তৈয়ারীর কারিগর মৃৎশিল্পীরা তাদের পূর্ব পুরুষের পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত হচ্ছেন অনেকেই। স্থানীয় ভাষায় এদের কুমার বলা হয়। কুমাররাও এতোদিন টিকে ছিলেন নানা প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে। কিন্তু এটেল মাটি ও জালানীর মূল্য বৃদ্ধি আর পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, ব্যাংক বা এনজিও ঋণ না পাওয়া এবং মাটির তৈরী জিনিসের চাহিদা কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে তারা পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলার গয়হাটা ও সহবতপুর ইউনিয়নের কুমারপাড়া নামক অবস্থিত এলাকায় সবুজ শ্যামল ছায়াঘেরা পরিবেশের মৃৎশিল্পী কারিগরেরা তাদের মনের মাধুরী মিশিয়ে শোভা বর্ধন মাটির পুতুল, কলস, চাড়ি, হাড়ি, পাতিল, খুঁটি, মাটির ব্যাংক, বাটনাসহ নানা বৈচিত্রর খেলনা ও মাটির তৈরি সামগ্রী রং তুলির কাজ করে আকর্ষণীয় করে তুলে। রং-তুলির কারুকার্যে মানুষ মুগ্ধ হয়ে যেত। কুমারপাড়া গ্রামে প্রায় ১০০টি পাল পরিবার রয়েছে। তারা তাদের মাটির তৈরী বাসন পত্র বিভিন্ন হাটে বাজার ও গ্রাম গন্জে বিক্রি করেন ভ্যানে করে।
বর্তমানে মানুষ মাটির সামগ্রীর পরিবর্তে এলুম্যানিয়াম, প্লাস্টিক ও মেলামাইনের সামগ্রীর ব্যবহার করার ফলে তাদের তৈরী জিনিস পত্রের চাহিদা অনেকটাই কমে গেছে এবং কালের বির্বতনে বিলীনের পথে।
সরেজমিন, কুমারপাড়ার ভাবন পাল(৪৩)পিতা মৃত খুশি মোহন পাল জানান, যুগের পরিবর্তন মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের সাথে সাথে ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরির দ্রব্যাদি মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। তবে গ্রাম গন্জের শিশুদের মাঝে এখনো রকমারী খেলনাপাতির চাহিদা রয়েছে, যাহা বিভিন্ন পুজা পার্বন ও গ্রাম্য মেলায় প্রচুর চাহিদা ও বিক্রি হয়।
গৌরাঙ্গ (৬০) পিতা মৃত মাধব পাল বলেন, এ শিল্পকে ধরে রাখার জন্য আমাদের এত পুঁজি নেই এবং ইহা বানাতে যে সময়, শ্রম, পুজি লাগে উহার যোগান সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে পেশা ছেড়ে দিতে হচ্ছে।
শ্রীবাস পাল (৪৫) ও খুশি মোহন(৪৭) বলেন, ব্যাংক বা এনজিও আমাদের এ পেশায় ঋণ দিচ্ছে না। ছেলে মেয়েদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলা অনেক কঠিন। তাই ছেলে মেয়েদের শিক্ষিত করার জন্য তারা এ পেশা ছেড়ে দিয়ে লাভজনক পেশা খুজছেন। তবে মাটির তৈরি তৈজস এর পাশাপাশি কুয়ার পাটের বেশি চাহিদা রয়েছে। 

 

#চলনবিলের আলো / আপন

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।