রবিবার , ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৫শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - শীতকাল || ২০শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

সম্পত্তির লোভে বড় ভাইকে আট বছর শিকল বন্দি শিকলে বন্দি জীবন থেকে মুক্তির আর্তনাদ যুবকের

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২১

“ভাই আমি পাগল না। পৈত্রিক সম্পত্তির লোভে আমার ভাই আমাকে শিকল দিয়ে আটকে রেখেছে। আমি শিকলবন্দি জীবন থেকে মুক্তি চাই। আট বছর ধরে আমার পায়ে শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয়না। বেশিরভাগ দিন আমার উপোস কাটে।
আগে বাম পায়ে শিকল ছিলো। সেখানে ক্ষত হওয়ায় এখন ডান পায়ে শিকল দেওয়া হয়েছে। কয়েক বছর আগে জমির খতিয়ান রেকর্ডের নামে দলিলে ছোট ভাই আমার স্বাক্ষর নিয়েছে। শুধু সম্পত্তি নিজের নামে করতে ভাই আমাকে শিকলবন্দি করে রেখেছে। আমি শিকলবন্দি জীবন থেকে মুক্তি চাই।”
কথাগুলো বলছিলেন, শুধু পৈত্রিক সম্পত্তির লোভে ছোট ভাই কর্তৃক আট বছর ধরে শিকলবন্দি করে রাখা বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রাংতা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন তোতা (৩৬)। তিনি (তোতা) ওই গ্রামের মৃত আলতাব হোসেনের বড় ছেলে। তার ছোট ভাই অভিযুক্ত মানিক মিয়া রাংতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
খবর পেয়ে রবিবার সন্ধ্যার পরে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুশান্ত বালা তোতার বাড়িতে গিয়ে শিকলবন্ধি থেকে মুক্ত করেছেন। সমাজ সেবা কর্মকর্তা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে অভিযুক্তর বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে জাহাঙ্গীর হোসেন তোতা বড়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে তিনি ঢাকা তিতুমীর কলেজে পড়াশোনারত অবস্থায় পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিয়ে করানো হয়। বিয়ের পর স্ত্রীর গর্ভে থাকা সন্তান নষ্ট হওয়ার জের ধরে তাদের দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে ১০ বছর আগে স্ত্রী তাকে (তোতা) ছেড়ে চলে যায়। এ ঘটনার দুইবছর পর পাগল আখ্যায়িত করে পরিত্যক্ত একটি ঘরে তোতাকে শিকল বন্দি করে রাখা হয়।
তোতার ছোট ভাই মানিক মিয়া নিজে থাকার জন্য পাকা ভবন নির্মাণ করলেও তার বড় ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন তোতাকে রাখা হয়েছে ছোট একটি পরিত্যক্ত ঘরে। সেখানে লোহার শিকল পরিয়ে ঘরের খুঁটির সাথে তালা দিয়ে তোতাকে আটকে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, তোতা মানসিকরোগে আক্রান্ত, তবে পাগল বলা যাবেনা। তার আচার-আচরণ একজন স্বাভাবিক মানুষের মতোই। উন্নত চিকিৎসা পেলে সে (তোতা) পুরোপুরি সুস্থ্য হতে পারেন। তবে তার ছোট ভাই মানিক মিয়া শুধু সম্পত্তির লোভে সুচিকিৎসা না করিয়ে তোতাকে পাগল হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে জাহাঙ্গীর হোসেন তোতার ছোট ভাই মানিক মিয়া বলেন, বড় ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন তোতা দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে মানসিকরোগে ভুগছেন। বড় ভাই অচেনা কাউকে দেখলে তাকে মারধর করেন। এ কারণে তাকে শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে মানিক মিয়া বলেন, সরকারীভাবে জমি জরিপের পর খতিয়ান রেকর্ডের জন্য বড় ভাইয়ের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিলো। জমি আত্মসাতের অভিযোগ সঠিক নয়।

 

 

#চলনবিলের আলো / আপন

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।