শনিবার , ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - শীতকাল || ১৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

জীববৈচিত্র রক্ষাকারী ব্যাঙের দিন ফুরিয়ে আসছে!

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২১

খাল-বিল নদী-নালা বেষ্ঠিত নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় ফসলী জমিতে ইরি-বোরো ও রোপা-আমন মৌসুমে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার, কীটনাশক ব্যবহারের ফলে বিপন্ন হয়ে পড়ছে প্রাকৃতিক পোকা মারার যন্ত্র কোলা ব্যাঙ। এর সাথে চরম হুমকির মুখে পড়ছে কৃষিবান্ধব অন্যান্য প্রাণীক‚ল। এতে খাদ্য সংকটে পড়ছে অনেক জীবজন্তু এবং পাখিরা।
জমিতে দাফায় দাফায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার এবং বন-জঙ্গল উজার করায় মাটির উর্বরতাসহ জীববৈচিত্র রক্ষাকারী ব্যাঙের দিন ফুরিয়ে আসছে। প্রতিনিয়তই নষ্ট হচ্ছে এদের বাসস্থান ও প্রজনন-আশ্রয়। ফলে দিন দিন বিলুপ্তির পথে কোলা ব্যাঙ, কুনো ব্যাঙসহ নানান প্রজাতির কৃষি উপকারী প্রাণী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রাণীনগর উপজেলার রক্তদহ বিল, বিল মুসুর,বিল চোর সহ সকল খাল দখল মুক্ত, জীববিৈচত্র রক্ষা-সংরক্ষণ ও পানি দূষণ রোধে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

বগুড়া আজিজুল হক কলেজের প্রাণীবিজ্ঞানের সাবেক ছাত্র রাণীনগর সদরের সিম্বা গ্রামের গোলাম রাব্বানী বলেন, ব্যাঙ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে এবং মানুষের অনেক উপকারে আসে।
ডেঙ্গু, কলেরা, টাইফয়েড, এনথ্রাক্স, ম্যালেরিয়ার মতো অনেক ভয়ংকর রোগবাহী কীটপতঙ্গ খেয়ে এসব রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে মানুষকে রক্ষা করে ব্যাঙ। একটি ব্যাঙ প্রতিদিন তার দেহের অর্ধেক পরিমাণ পোকা খেতে পারে। এ কারণে পরিবেশ রক্ষায় ব্যাঙ সংরক্ষণ অতি জরুরী। এছাড়াও ব্যাঙ ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ, পোকামাকড় খেয়ে ফসলের সুরক্ষা এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। এজন্য ব্যাঙকে ‘প্রাকৃতিক কীটনাশক’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, পানিদূষণের কারণে ব্যাঙ বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।
উপজেলা হরিশপুর গ্রামের কৃষক আহাদ আলী, সিম্বা গ্রামের ওবাইদুল ও জাকির হোসেন জানান, ৪-৫ বছর আগেও এই এলাকার জমিগুলোতে অনেক ব্যাঙ থাকতো। বিশেষ করে নিচু শ্রেণীর জমি এবং খাল-বিলের চারপাশ দিয়ে যে আবাদি জমি আছে সে জমিগুলোতে প্রচুর ব্যাঙ দেখা যেত। কিন্ত এখন আর জমিতে ব্যাঙই চোখে পড়ে না! আমাদের এলাকায় ইরি-বোরো মৌসুমে জমি চাষ থেকে ধান কাটা-মাড়াই পর্যন্ত সার প্রয়োগ করতে হয় প্রায় তিনবার, কীটনাশকও তিন/চার বার স্প্রে করে দিতে হয়। রোপা-আমন মৌসুমেও একই রকমে প্রয়োগ করতে হয়, সব মিলে বছরে প্রায় অর্থাৎ ধানের দুই মৌসুমে সার ৬বার এবং কীটনাশক প্রায় ৬ থেকে ৭বার প্রায়োগ করতে হয়। বিভিন্ন কোম্পানির এক এক কৃষক এক এক রকমের কীটনাশক ব্যবহার করে। এত কীটনাশকের মধ্যে ব্যাঙ থাকবে কিভাবে?

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ধানের প্রধান প্রধান ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণে ইরি-বোরো, আউশ এবং আমন মৌসুমে অনেক ফলন কম হয়। যেসব জমিতে কোলা ব্যাঙ থাকে সেসব জমিতে ক্ষতিকর পোকামাকড় খুবই কম হয়। ব্যাঙ কৃষি ফসলের উৎপাদনে বড় রকমের অবধান রাখে। কোলা ব্যাঙ অনেক স্থানে সোনা ব্যাঙ বা ভাউয়া ব্যাঙ নামে পরিচিত। ফসলী জমিতে ব্যাঙের মলমূত্র ও দেহাবশেষ পচে মাটির উর্বরতা শক্তি এবং ফসলের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। শস্যক্ষেতের ঘাসফড়িং, সবুজ পাতাফড়িং, বাদামি গাছফড়িং, পামরি পোকা ও হলুদ মাজরা পোকা খেয়ে উপকার করে। ফলে অধিক পরিমাণে কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।

 

রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, ব্যাঙ উভচর প্রাণী। এরা ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় ধরে খায়। এ কারণে ব্যাঙকে পোকা মারার প্রাকৃতিক যন্ত্রও বলা হয়। ব্যাঙ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে এবং মানুষের অনেক উপকারে আসে। ধানভিত্তিক কৃষির জন্য ব্যাঙ অপরিহার্য। ব্যাঙ রক্ষায় কৃষকই বিরাট অবদান রাখতে পারে বলে তিনি জানান।

 

 

#চলনবিলের আলো / আপন

 

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।