*আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের কাছে বিচার
*সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা সদস্য প্রার্থীদের
দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ আগামী ১১ নভেম্বর। নির্বাচনের দিন যতোই ঘনিয়ে আসছে জেলার তিনটি উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের নির্বাচনী মাঠ ততোই উত্যপ্ত হয়ে উঠছে। ফলে নির্বাচনের দিন সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিয়ে চরম শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন ভোটার থেকে শুরু করে সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থীরা।
ভোট নিয়ে বিশেষ অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে আগৈলঝাড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ইতোমধ্যে বিনাপ্রতিদ্বন্ধীতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে ওই উপজেলার নির্বাচিত কতিপয় চেয়ারম্যান বিভিন্নভাবে প্রভাবিত হয়ে বর্তমানে তাদের পছন্দের সাধারণ ও সংরক্ষিত ইউপি সদস্যদের পক্ষালম্বন করে মাঠে প্রভাব বিস্তার শুরু করেছেন। ওইসব চেয়ারম্যানরা তৃণমূল পর্যায়ের ভোটারদের বিভিন্ন মাধ্যমে প্রলোভনসহ হুমকি অব্যাহত রেখেছেন। যেকারণে চেয়ারম্যানদের আর্শিবাদ পাওয়া সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি অব্যাহত রাখায় নির্বাচনী মাঠ উত্যপ্ত হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে এনিয়ে একটি ইউনিয়নে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার বাকাল ও রাজিহার ইউনিয়নের একাধিক সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, সদ্য আওয়ামী লীগে যোগদান করা ব্যক্তিদের প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়ে এখন তাদের পক্ষালম্বন করে চেয়ারম্যানরা বিভিন্ন কৌশলে মাঠে প্রভাব বিস্তার করছেন। ফলে আওয়ামী লীগের দুর্দীনের প্রকৃত নেতাকর্মী যারা এখন সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী হয়েছেন তারা শুধুমাত্র চেয়ারম্যানদের প্রভাবে ব্যাপক সমর্থন থাকা সত্বেও চরম বিপাকে পরেছেন। যেকারণে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে কোন্দল বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যতে (জাতীয় নির্বাচনে) যার চরম প্রভাব পরার আশংকা দেখা দিয়েছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রচার-প্রচারনায় মাঠেনামা তাদের কর্মী-সমর্থকদের চেয়ারম্যানের প্রভাব বিস্তার করে প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীর সমর্থকরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদর্শন করছেন। এমনকি ভোটের দিন কেন্দ্র দখল করারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চেয়ারম্যানদের আর্শিবাদ পাওয়া প্রার্থীরা আচারণবিধি লক্সঘন করে নির্বাচনী মাঠে প্রচার-প্রচারনা ও ভূরিভোজের আয়োজন করছেন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা সত্বেও তারা রহস্যজনক ভূমিকা পালন করার প্রভাব পরছে নির্বাচনী মাঠে।
চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের উল্লেখিত অভিযোগ এনে ইতোমধ্যে একাধিক প্রার্থীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছেন। ফলশ্রæতিতে নেতৃবৃন্দরা প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিদ্বন্ধীতা করা প্রার্থী ও বিনাপ্রতিদ্বন্ধীতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের নিয়ে সভার আয়োজন করেছেন। ওইসভায় নেতৃবৃন্দরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবাইকে নির্দেশনা দিলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা।
শুক্রবার (৫ নভেম্বর) বাকাল ইউনিয়নের সকল প্রার্থীদের নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় শুধুমাত্র চেয়ারম্যানের আর্শিবাদ পাওয়া প্রার্থী ব্যতিত অন্যসব সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্ধীতা করা প্রার্থীরা অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অসংখ্য অভিযোগ করেছেন আওয়ামীলগি নেতৃবৃন্দর কাছে। সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নির্বাচনকে চেয়ারম্যানদের প্রভাবমুক্ত করে শতভাগ সুষ্ঠু করার জন্য প্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ওই সভায় উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটন ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত যার যার ভোট সে নিজে ¯^াধীনভাবে দিতে পারবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেছেন।
বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি এসএম আকতারুজ্জামান বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপে¶ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ভোটাররা নির্বিঘেœ ভোট দেবেন। কোনো রকম অন্যায়কে আমরা প্রশয় দেবোনা। ভোট নিয়ে যে যা কিছুই বলুক না কেন, ভোটেরদিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি ভোটারদের সবরকম নিরাপত্তা দেবে পুলিশ।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে বরিশাল সদর উপজেলার ছয়টিসহ ভোট হবে আগৈলঝাড়ার পাঁচটি এবং বানারীপাড়ার একটি ইউনিয়নে। এরমধ্যে আগৈলঝাড়া উপজেলায় বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় নির্বাচিত হয়েছেন নৌকা প্রতীকের পাঁচজন চেয়ারম্যান। এর আগে গত ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের নির্বাচনে বরিশালের ৫০টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টিতে বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন।
আগৈলঝাড়ার পাঁচটি ছাড়া সাত ইউনিয়নের নির্বাচনে ৩৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। এরমধ্যে বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নে সাতজন, শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নে তিনজন, চরমোনাই ইউনিয়নে পাঁচজন, চরকাউয়া ইউনিয়নে সাতজন, চাঁদপুরা ইউনিয়নে পাঁচজন, চন্দ্রমোহন ইউনিয়নে তিনজন এবং বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়নে চারজন। বরিশাল সদর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের পাঁচটিতেই নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। পাশাপাশি তিনটি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতারা প্রার্থী হওয়ায় বেশ চাঁপে রয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা। এছাড়া জেলার ১২টি ইউনিয়নে সাধারণ ওয়ার্ডের সদস্য পদে ৪১০জন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য পদে ১৩১ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন।
#চলনবিলের আলো / আপন