বরিশালের আগৈলঝাড়ার ’৭১ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ঐতিহাসিক কেতনার বিল বধ্যভূমিতে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদদের দেহাবশেষ (হাড়-গোড়) ঠাঁই হয়েছে এশিয়ার একমাত্র মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর খুলনায় ‘গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরে’ ।
কেতনার বিল এলাকার বাসিন্দা মৃত দেবেন্দ্র নাথ পাত্র’র স্ত্রী মায়া পাত্র ’৭১এর বর্বোরোচিত গণহত্যা-নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন স্বরূপ মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের দেহবশাষে (হাড়-গোড়) এশিয়ার একমাত্র খুলনা গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরে দান করেন। এ সময় খুলনা গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরের গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুল হক ও গবেষক লুলু আর মারজান গণহত্যা-নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন স্বরূপ মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের দেহবাশেষ গ্রহণ করেন। এসময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
’৭১ সালে কেতনার বিলে গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জনান, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১৫ মে বিল পার হয়ে শত সহ¯্র লোকজন জীবন বাচানোর প্রয়োজনে পশ্চিম এলাকার বিভিন্ন স্থানে নিরাপদ আশ্রয়ে ছোটার সময়ে পাক বাহিনীর মেশিনগানের ব্রাশ ফায়ারে পাখির মত মাটিতে লুটিয়ে পরে জীবন দেয়। লাশের স্তুপে পরিনত হয় কেতনার বিল। পাক বাহিনী ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরে স্থানীয়রা নিহতদের একত্রিত করে কয়েকটি স্থানে গণকবর দেন। অনেক লাশ খাবার হয়ে যায় শিয়াল কুকুরের, পচে গলে নস্ট হয় অগনিত লাশ।
দেশ স্বাধীনের পরে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সময় মাটি কাটতে গিয়ে, চাষাবাদ করতে গিয়ে প্রায়ই পাওয়া যাচ্ছে মানুষের হাড়। এভাবে জমানো হাড়গোর স্থানীয়রা তাদের কাছে রেখে দেন পরম সযতেœ। তবে যথাযথভাবে সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে বেশ কিছু হাড়। মায়া পাত্র সরকারের কাছে দাবি রেখে জানান, সে দিনের জীবন দানকারীদের শহীদের মর্যাদা প্রদান করা হোক।
খুলনা গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরের গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুল হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা-নির্যাতন নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে তিনি ইতিহাস জানতে পেরে ৫০ বছরের পুরোনো মানব দেহের হাড়গোর জাদুঘরে সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেন। গণহত্যা-নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন স্বরূপ এই মানব হাড়টি জাদুঘরে আগৈলঝাড়ার কেতনার বিলের গণহত্যার নামেই সংরক্ষণ করা হবে এবং দাতা হিসেবে নাম থাকবে কেতনার বিল গ্রামের মৃত দেবেন্ত্র নাথ পাত্র’র স্ত্রী মায়া পাত্র’র।
স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সরকারীভাবে দক্ষিনাঞ্চলের সবচেয়ে বড় বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত কেতনার বিলের স্বীকৃতি মেলেনি। তবে সংবাদ মাধ্যমে প্রচার প্রচারণার কারনে গণহত্যার ঐতিহাসিক স্থানের নিদর্শন হিসেবে সরকারের এলজিইডি বিভাগের আওতায় গত বছর নির্মাণ করা হয়েছে একটি স্মৃতিসৌধ।
বৃহস্পতিবার , ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২২শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - শীতকাল || ১৭ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
আগৈলঝাড়ায় বধ্য ভূমিতে নিহতদের দেহাবশেষ এখন এশিয়ার একমাত্র ‘গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর’এ
প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২১