বুধবার , ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - শীতকাল || ১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

পায়রা সেতুতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘হেলথ মনিটরিং সিস্টেম’ ক্ষ তি এড়াতে মিলবে পূর্বাভাস

প্রকাশিত হয়েছে- শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১

আগামী অক্টোবর মাসের যেকোন দিন যানচলাচলে উন্মুক্ত করে দেওয়া হতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের দ্বিতীয় পদ্মা সেতু হিসেবে খ্যাত বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের লেবুখালী পয়েন্টে পায়রা নদীর ওপর নির্মিত নান্দনিক পায়রা সেতু।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের মধ্যদিয়েই যানচলাচলের জন্য এ সেতু উন্মুক্ত হবে। এটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। দেশে প্রথমবারের মতো এ সেতুতে যুক্ত করা হয়েছে হেলথ মনিটরিং ও পিয়ার প্রটেকশন সিস্টেম। এর মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মাত্রাতিরিক্ত ভারী যানবাহনের সংকেত পাওয়া যাবে।
প্রকল্প পরিচালক আব্দুল হালিম জানান, এ সেতুর একটি বিশেষত্ব হচ্ছে, যেকোনও দুর্ঘটনায় সিগন্যাল দেবে। দেশে প্রথমবারের মতো পায়রা সেতুতে যুক্ত করা হয়েছে হেলথ মনিটরিং ও পিয়ার প্রটেকশন সিস্টেম। এর ফলে যেকোনও ধরনের ওভারলোডেড (মাত্রাতিরিক্ত ভারী) যান সেতুতে উঠলে সাথে সাথে হেলথ মনিটরিং সিস্টেম থেকে সিগন্যাল পাওয়া যাবে। একইভাবে উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প ও বজ্রপাতসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেগুলোতে সেতুর ¶তি হতে পারে এ ধরনের আশঙ্কা থাকলেও সিস্টেম সিগন্যাল দেবে।
প্রকল্প পরিচালক বলেন, পায়রা নদীর ওপর প্রায় দেড় কিলোমিটার সেতুর ৯৯ ভাগ এবং পুরো প্রকল্পের ৯৩ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি নদী শাসনের কাজ সম্পন্ন করতে ফেরি চলাচল বন্ধ করতে হবে। সেতুতে যানবাহন চলাচল শুরু হলে ফেরি চলাচল বন্ধ করে এ কাজ সম্পন্ন করা হবে।
আব্দুল হালিম আরও বলেন, কর্ণফুলী দ্বিতীয় সেতুর আদলেই নির্মাণ করা হয়েছে চার লেনের পায়রা সেতু। পায়রা নদীর মূল অংশের ৬৩০ মিটারে বক্স গার্ডার চারটি স্প্যানের ওপর নির্মিত হয়েছে। সেতুর ৩২টি স্প্যান দাঁড়িয়ে আছে ৩১টি পিয়ারের ওপর। ২৮টি স্প্যানের ১২টি বরিশাল প্রান্তে এবং ১৬টি পটুয়াখালী প্রান্তে। এছাড়া ১৬৭টি বক্স গার্ডার সেগমেন্ট রয়েছে সেতুতে। ফলে দূর থেকে সেতুটিকে মনে হবে ঝুঁলে আছে। বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করা হয়েছে পুরো সেতুটি। এক্সট্রা ডোজ ক্যাবল স্ট্রেট নকশায় নির্মিত সেতুর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৪৭০ এবং প্রস্থ ১৯.৭৬ মিটার। নদীর উভয়প্রান্তে সংযোগ সড়ক রয়েছে ১ হাজার ২৬৮ মিটার।
তিনি আরও বলেন, পায়রা সেতু নির্মাণে নদীর তলদেশে বসানো হয়েছে ১৩০ মিটার দীর্ঘ পাইল। যা দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ। জোয়ারের সময় নদী থেকে সেতুটি ১৮ দশমিক ৩০ মিটার উঁচু থাকবে। চার লেনের সেতুটির উভয়পাশে মোট ১ হাজার ২৬৮ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। টোলপ্লাজা, প্রশাসনিক ভবন, ইলেকট্রিফিকেশন, নদীশাসন প্রকল্পের কাজও শেষ হয়েছে।
আগামী মাসের যেকোনো সময় প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যদিয়ে সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তারই অংশহিসেবে গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে পায়রা সেতু পরিদর্শন করেছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদল। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দীন হায়দার, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন, পটুয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লা প্রমুখ।
সেতুটি নির্মাণে কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট, ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এবং বাংলাদেশ সরকার যৌথ বিনিয়োগ করেছে।
২০১৬ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ পায়রা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করে। সেতুটি নির্মাণ করেছেন চীনের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লনজিয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ কনস্ট্রাকশন। এটি নির্মাণ করা হয়েছে চট্টগ্রামের তৃতীয় কর্ণফুলী সেতুর আদলে নান্দনিক নকশায়।
বিভাগীয় কমিশনার মোঃ সাইফুল হাসান বাদল বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর নির্ধারণ হবে সেতু উদ্বোধনের তারিখ ও সময়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণার মধ্যদিয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বরিশালসহ গোটা দ¶িণাঞ্চলবাসীর কাক্সিখত পায়রা সেতুর দ্বার।

 

 

#চলনবিলের আলো / আপন

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।