দীর্ঘ ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর খুলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।সারাদেশের ন্যায় খাগড়াছড়ির রামগড়েও করোনার সংক্রমন কমে যাওয়ায় আগামী রবিবার থেকে খুলে দেয়া হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো। কোলাহলময় ও শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হবে স্কুল প্রাঙ্গন।এই নিয়ে একটি উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে শিক্ষক,শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক দের মাঝে।পুরোদমে চলছে বিদ্যালয়ের আঙ্গিনা এবং আসবাবপত্র জীবানুমুক্ত করনের কাজ।
উপজেলা শিক্ষা অফিস জানায়,রামগড় উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪৭টি,মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৫টি,কলেজ ১টি, মাদ্রাসা ২টি, কিন্ডারগার্ডেন রয়েছে ৩টি,নুরানী মাদ্রাসা ১৪টি।প্রাথমিকে ৮১৪০জন সহ মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যার ১৬৫০০জন প্রায়।
সরেজমিনে রামগড় মড়েল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গিয়ে দেখা যায়,বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ,শ্রেণীকক্ষ, অফিসকক্ষ জীবানুমুক্ত করণে ব্যস্ত পরিচ্ছন্ন কর্মীরা।প্রতিটি শ্রেণী কক্ষের সামনে বসানো হয়েছে হাত ধোয়ার জন্য পানি ও সাবান,স্যানিটাইজার,ফিনাইল ও ডেটল।পরিস্কার করা হচ্ছে বিদ্যালয়ের শৌচাগার।
কয়েকদফা ছুটি বাড়ানোয় বিদ্যালয় খোলা নিয়ে এইবারেও সংশয়ে ছিলেন নিজাম উদ্দীন নামের এক অভিভাবক।নিশ্চিত হতে ছেলেকে সাথে নিয়ে রামগড় মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসেন তিনি।
স্কুল খোলার খবর নিশ্চিত হয়ে উচ্ছাসিত নিজাম উদ্দীন জানান,করোনার কারণে দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে আমরা ঘর বন্দি ছিলাম।এই সময়টায় শিশুদের মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়েছে।পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে উঠেছে।বিদ্যালয় খোলা থাকলে এমনটা হতোনা।বিদ্যালয় খোলার খবরে তিনি স্বস্তি পাচ্ছেন।
বাবার পাশে থাকা পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ উদ্দীন জানান,স্কুল খোলায় সে খুব খুশি।বন্ধুদের সাথে দেখা হবে।
রামগড় মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দীন জানান,দীর্ঘদিন পর স্কুল খোলায় বিদ্যালয়ের আঙিনা এবং খেলার মাঠ পরিস্কার করা হয়েছে। তাছাড়া সকল শ্রেণী কক্ষের চেয়ার- টেবিল ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ধোয়া হয়েছে।শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার,সাবান পানি ইত্যাদির সুব্যবস্থা করা হয়েছে।স্বাস্থ্যবিধি মানতে অভিভাবক দের প্রয়োজনীয় দিক নিদর্শনা দেওয়া হবে।এক কথায় বিদ্যালয় গুলো পাঠদানের জন্য শতভাগ উপযোগী রয়েছে ।
রামগড় পাকলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানান,শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মত আমরাও খুশি।দীর্ঘদিন পর চিরচেনা প্রাঙ্গনে শিক্ষার্থীদের আবার পড়াবো।ভাবতেই ভালো লাগছে।স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদানের জন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আবু ইউসুফ জানান,প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে বৈঠক হয়েছে।সরকারি দিকনির্দেশনা মেনে চলতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের আহ্বান করেছেন তিনি।
#চলনবিলের আলো / আপন