যমুনায় বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে ৷ উজান থেকে ধেয়ে আসা পানিতে চৌহালী প্লাবিত। গত ২৪ ঘন্টায় সিরাজগঞ্জ জেলায় যমুনা নদীর পানি আরো ১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ৷
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টের দায়িত্বে থাকা গেজ মিটার (পানি পরিমাপক) আব্দুল লতিফ প্রতিবেদককে জানান, গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা পর্যন্ত শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে যমুনার পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জেলার সকল নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে ৷এতে সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে ৷ বন্যার কারনে দিন এনে দিন খাওয়া গরিব অসায় মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে এবং জরুরি কাজে বাহিরে বের হতে পারছেনা ৷ বন্যা ও নদীতে ঘর-বাড়ি ভাঙ্গা মানুষ অন্য জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে ৷ এতে বিশুদ্ধ পানি গো খাদ্য ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে ৷
উপজেলার বিনানই গ্রামের আমোদ আলী বলেন, তার বাড়িতে পানি উঠায় গরু-বাছুর, হাস-মূরগী নিয়ে সমস্যায় পরেছি ৷
ঘোরজান ইউনিয়নের কৃষক সোলাইমান জানান, বন্যার কারনে কাজকর্ম নেই, পানি উঠায় কোথাও বের হতে পারছিনা ৷
এ দিকে পানি বাড়ার সাথে সাথে উপজেলার দক্ষিণ এলাকা খাষপুখুরিয়া থেকে বাঘুটিয়া পর্যন্ত তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত এক মাসের ভাঙ্গনে প্রায় ২শত বাড়ি-ঘর যমুনায় বিলীন হয়েছে ৷ ভাঙ্গন এলাকায় নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপাড়ের অসহায় মানুষদের ৷বাঘুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান কাহহার সিদ্দিকী ও খাষপুকুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সরকার বলেন, বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়ে গ্রামের পর গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি বন্ধি ও ভাঙ্গন কবলিত হয়ে পরেছে অগনিত মানুষ।
উপজেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মজনু মিয়া জানান, আমাদের কাছে প্রচুর পরিমানে চাল, টাকা ও শুকনো খাবার রয়েছে, বিতরণ করছি এবং বিতরণ অব্যাহত থাকবে ৷
#চলনবিলের আলো / আপন