শিম সাগর নামে খ্যাত আটঘরিয়া। এ-উপজেলার কৃষককেরা আগাম জাতের শিম চাষ করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছে। প্রতি কেজি আগাম জাতের অটোশিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা কেজি। একবিঘা জমিতে খরচ বাদে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা ঘরে তুলে নিচ্ছেন এই এলাকার শিম চাষিরা। বর্তমানে অটোশিম, চকলেট শিম, রুপবান শিমসহ নানান জাতের শিম চাষ শুরু করেছেন কৃষকেরা। বর্তমানে দামও ভাল, ফলন ভাল হয়েছে। আশা করছে শিমে কোন রোগবালাই না হলে কৃষকের মুখে ফুটছে হাসি।
কথা হয় আলহাজ উদ্দিন, আলাউদ্দিন, নুরুজ্জামান,শাহিন, মজিবর, গোলাজার হোসেনসহ ১০ থেকে ১৫ জন শিম চাষিদের সাথে, আমাদের এলাকায় শিম সাগর নামে পরিচিত। আগাম জাতের শিম সহ সবধরনের শিম পাওয়া যাচ্ছে। তবে আগাম জাতের শিম আবাদে করলে আমাদের ব্যাপক লাভ বেশি হচ্ছে।
তারা জানান, গাছ ও পাতা সবুজ ফুল ও ফল রঙিল যাকে বলা হয় অটোশিম। গাছে গাছে বেগুনি ফুলের অপরুপ সমারোহ আর আঁকাবাকা লতা গাছই যেন একে অটো শিমের নাম দিয়েছে। সাধারনত শীত মৌসুম ছাড়া বছরের অন্য সময়টাতে শিম চাষ না হলেও শিম রাজ্য হিসেবে খ্যাত আটঘরিয়া উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়ন ও চাঁদভা ইউনিয়নের কিছু অংশ এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই এলাকার কৃষকের কাছে। এই এলাকায় অটোশিম চাষে কৃষকের মুখে এখন হাসি আর হাসি। এ শিম চাষে কৃষকের আগ্রহের কোনো কমতি নেই তাদের একজন আমজাদ হোসেন। সারদিন শিম গাছ পরিচর্যা করে বাজারে ভালো দামও পাচ্ছেন।
তিনি দীর্ঘ দিন ধরে এই শিমের আবাদ করে আসছেন। জৈষ্ঠের শেষে বীজ বপন করে তিনমাস কঠিন খাটুনির মাধ্যমে তার শিম ক্ষেত এখন ফুলে ফুলে সুশৌভিত। ভ্রাদের শুরুতেই আমজাদ হোসেন শিম গাছ ফলনের দেখা মিলেছে। ইতোমধ্যে সে বেশ কিছু শিম বাজারে বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছে। এবং আশানুরুপ দাম ও তিনি ভাল পেয়েছেন বলে জানান।
শিমচাষিরা দৃলাল মৃর্ধা বলেন, আমি সাড়ে ৫ বিঘা জমিতে শিম আবাদ বরেছি। ফালও ভালো হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে ১০ থেকে ১৫ কেজি করে শিম বাজারে বিক্রি করছি। তাতে দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। আমার শিম চাষ আবাদ করা দেখে এলাকায় এখন অনেকেই অটোশিম, রপবানশিম, চকলেট শিমসহ নানান জাতের শিম চাষে ঝঁকছেন। যা এলাকায় চোখে পড়ার মতো। এবছর আমি অটোশিমের বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছি। তাই আমি প্রতি বছর এই শিম বিক্রি করে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা শিম বিক্রি করি। এবছরও আমি ফলন দামের প্রতি আশাবাদি। তাদের প্রতেক্যই অতিতের মতো বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ার আশাবাদী। অটোশিমের দামও বেশি। দাম ও ফলনকে প্রাধান্য দিয়ে রুপবান শিম, চকলেটশিম সহ নানা জাতেরশিম চাষে আগ্রহ হচ্ছে কৃষকরা। তবে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের সহযোগিতা ও পরামর্শ পেলে চার্ষী বাড়বে বলে জানান তিনি। এছাড়াও মাজপাড়া ইউনিয়নে এই শিম আবাদ ব্যাপক চাষাবাদ হচ্ছে।
ব্যাপারি আব্দুল রাজ্জাক, কাসেম নজরুলসহ অনেকের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আটঘরিয়া উপজেলা শিম সাগার নামে দেশ বিদেশের মানুষের কাছে ব্যাপক সুনাম রয়েছে। আমরা প্রতিদিন ভোরে মাজপাড়া এলাকার বিভিন্ন স্থানে শিমের আড়ৎ বসিয়ে এলাকার কৃষকের কাছ থেকে অটোশিম, রুপবান শিম সহ নানা জাতের শিম ক্রয় করছি। প্রতি কেজি শিম আমাদেরকে কিনতে হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। এতে প্রতিমণ শিম ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় কিনতে হয়। এই শিম আমরা দেশের বিভিন্ন বাজারে ট্রাক বোঝাই করে বাজারজাত করছি। সব খরচবাদে আমাদের ভালো একটা লাভ থেকে যায়।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার সজীব আল মারুফ বলেন, অটোশিম মুলত শীতকালীন সবজি। তবে এখন সারাবছর এর চাষাবাদ হচ্ছে। আটঘরিয়া উপজেলায় বর্তমানে পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌর সভায় ১৫২০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। ১৭০৭ হেক্টর জমিতে গত বছর শিমের আবাদ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ১৬৫০ হেক্টর। তবে এই উপজেলার অধিকাংশ কৃষক শিম আবাদের সাথে অতপর ভাবে জড়িত। তবে আগাম জাতের শিম বর্তমানে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।
শিম উৎপাদন বৃদ্ধি করতে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে সব সময় কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। ভালোভাবে বর্ষা মৌসুমে অটোশিম ও রুপবানশিম, চকলেট শিমের বীজ সংগ্রহ করতে পারলে আগামীতে এজাতীয় শিমের চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরো বলেন, অটো ও রুপবান শিম চাষে খরচ তুলনামূলক ভাবে বেশি হলেও এ-শিমের বাজার দরও বেশি। ফলে কৃষকরাও অটোশিমে চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
#চলনবিলের আলো / আপন