সোমবার , ২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - শীতকাল || ১৪ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

আগৈলঝাড়ায় ৫’শ ২৭ বছরের পুরোনো কবি বিজয় গুপ্তের ঐতিহ্যবাহি গৈলা মনসা মন্দিরে বাৎসরিক পূজা মঙ্গলবার

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ১৬ আগস্ট, ২০২১

মধ্যযুগ থেকে আজও পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কবি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা গ্রামে জন্ম নেয়া কবি বিজয় গুপ্ত’র অমর সৃস্টি “মনসা মঙ্গঁল” কাব্যর রচয়িতা ও প্রতিষ্ঠিত “মনসাকুন্ড” নামে খ্যাত গৈলা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ৫’শ ২৭বছর বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠিত মনসা মন্দিরে দেবী মনসার বাৎসরিক পূঁজা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১৭আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। পঞ্জিকা মতে, প্রতিবছর শ্রাবন মাসের শেষ দিনে বিষ হরি বা বিষ হরণকারী দেবী মনসার পূঁজা ভারতীয় উপমহাদেশে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
“ধর্ম যার যার উৎসব সবার”-এ বাক্য ধারন করে বিজয় গুপ্ত’র প্রতিষ্ঠিত মন্দিরে জাতি, ধর্ম, বর্ন নির্বিশেষে বাৎসরিক পূঁজায় দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত ও পূন্যার্থীর পূষ্পার্ঘ্য নিয়ে মন্দিরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সমবেত হয়েছেন।
মনসা মঙ্গল কাব্য ও জনশ্রুতির ইতিহাস মতে, ৫শ ২৭ বছর আগে মধ্যযুগে সুলতান হোসেন শাহ্র রাজত্বকালে ইংরেজী ১৪৯৪ সনে কবি বিজয় গুপ্ত দেবী মনসা কর্র্তৃক স্বপ্নে দেখে নিজ বাড়ির সু-বিশাল দীঘি থেকে পূঁজার একটি ঘট পেয়ে তা তুলে এনে গৈলা গ্রামের নিজ বাড়িতে দেবী মনসার মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

পরে দেবী মনসার আদেশে দিঘীর ঘাটের পাশ্ববর্তি একটি বকুল গাছের নীচে বসে স্বপ্নে আদিষ্ট হয়েই “মনসা মঙ্গল” কাব্য রচনা করেন। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক সুলতান হোসেন শাহ্র রাজত্বকালে ওই বছর বিজয় গুপ্ত মনসা মঙ্গঁল রচনা করে রাজ দরবারে “মহা কবি”র খেতাবে অধিষ্টিত হন। সেখান থেকেই মনসা মঙ্গল কাব্যে বিশ^জোড়া কবির পরিচিতি পান বিজয় গুপ্ত।

জনশ্রুতি রয়েছে, দেবী পদ্মা বা মনসা বিজয় গুপ্তের কাব্য রচনায় সন্তুস্ট হয়ে আশির্বাদ হিসেবে বিজয় গুপ্তকে স্বপ্নে বলেছিলেন “তুই নাম চাস?, না কাজ চাস?” উত্তরে বিজয় গুপ্ত বলেছিলেন “আমি নাম চাই”। যে কারনে তার নাম বিশ্বেব্যাপি ছড়িয়ে পড়লেও তিনি দেহত্যাগ করেছেন উত্তরাধিকার বিহীন। বিজয় গুপ্তর জন্ম তারিখ গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যের মাধ্যমে নির্নয় করা হলেও মৃত্যু কাল সম্পর্কে সঠিক কোন দিন তারিখ গবেষকরা বলতে পারেন নি। গবেষকদের ধারণা মতে, ১৪৫০খ্রিষ্টাব্দে জন্ম গ্রহন করা এই বিখ্যাত কবি সম্ভবত ৭০ বছর বয়সে ১৫২০ খ্রিষ্টাব্দে কাশী ধামে বিজয় গুপ্ত দেহত্যাগ করেন।

বিজয় গুপ্তই সর্বপ্রথম তার রচিত মনসা মঙ্গল কাব্যে ইংরেজী দিন, তারিখ ও সনের লিপিবদ্ধ করেন। এর আগেও একাধিক পন্ডিত ও কবিরা মনসা মঙ্গল রচনা করেছিলেন। যার অন্যতম ছিলেন ময়মনসিংহ’র কানা হরি দত্ত। কিন্তু তাদের তুলনায় বিজয়গুপ্তর কাব্য নিরস হলেও নৃপতি তিলক (সুলতান হোসেন শাহ) গুনকীর্তন ও ইংরেজী দিন, তারিখ ও সনের লিপিবদ্ধ করার কারণে তিনিই হয়ে ওঠেন মনসা মঙ্গল কাব্য রচয়িতাদের অন্যতম। সুলতানের দরবারে “মহা কবি” খেতাব পাওয়ার পর সমগ্র ভারতবর্ষে মহা ধুমধামে মনসা দেবীর পূঁজার প্রচলন ঘটে। মহাকবি বিজয় গুপ্তের পিতার নাম সনাতন গুপ্ত ও মাতার নাম রুক্সিনী দেবী।

গৈলা কবি বিজয় গুপ্তের স্মৃতি রক্ষা মনসা মন্দির সংরক্ষণ ও উন্নয়ন কমিটির সদস্যরা জানান, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সেনারা বিজয় গুপ্তের মন্দির থেকে মনসা দেবীর বিগ্রহ চুরি করে নেয়ার পর ২০০৮ সালে সনাতন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের দেশ বিদেশের ভক্তবৃন্দদের আর্থিক অনুদানে প্রায় ১টন ওজনের পিতলের তৈরি মনসা দেবীর প্রতিমা পূণ স্থাপন করা হয়। দৃষ্টি নন্দন হবার কারণে বরিশাল জেলার পর্যটন এলাকা হিসেবে বিজয় গুপ্তর প্রতিষ্ঠিত মনসা মন্দির রয়েছে অগ্রভাবে।

বরিশাল জেলা প্রশাসন জেলার দর্শনীয় স্থানের তালিকার শীর্ষে রেখেছে ঐতিহাসিক বিজয় গুপ্তের মনসা মন্দিরের নাম। দেশ-বিদেশের পুণ্যার্থী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের পর্যটনের উল্লেখযোগ্য স্থান হিসেবে রয়েছে এ মন্দিরের স্বীকৃতি।
মনসা মন্দির সংরক্ষণ ও উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল দাশ গুপ্ত জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও পূজা উপলক্ষে মানত দিতে দেশ-বিদেশের হাজার-হাজার ভক্তবৃন্দ পূজার্ঘ্য নিয়ে মন্দিরে আসতে শুরু করেছেন।
নিরাপত্তা ও শৃংখলার জন্য মন্দির ও পূঁজা কমিটির নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি থানা পুলিশও পূজায় ব্যাপক ভুমিকা পালন করে চলেছে।

 

 

#চলনবিলের আলো / আপন

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।