রবিবার , ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - শীতকাল || ১৩ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

লামায় একটি সেতুর অভাবে ১০ গ্রামের মানুষের ভোগান্তি

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১

শুধুমাত্র একটি সেতুর অভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের (৭নং ওয়ার্ড) ১০ গ্রামের ১৫ হাজারধিক মানুষ। কোনো মতে বাঁশের বেলা,ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই বা হেটে পারাপার হচ্ছেন তারা।

দীর্ঘদিন ধরে একটি ব্রিজের দাবি জানিয়ে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দফতরের অফিসে ধর্ণা দিয়েও কোনো সুফল পাননি ভুক্তভোগীরা। এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি সেতু নির্মাণের। সেতুটি নির্মিত হলে শিক্ষার পাশাপাশি অর্থনেতিক উন্নয়ন ও ১৫ হাজারাধিক মানুষের দুর্ভোগ কমবে বলে জানান স্থানীয়রা।

গতকাল সরেজমিনে জানা যায়, ফাদু খালের উত্তর পাশের অন্তত ১০টি (বড় পাড়া,চরপারা,অঙ্গাবিল,নতুন মুসলিম পাড়া, বাটেনটিলা,বার্মাইয়া পাড়া,কুইলাইক্কা পাড়াসহ) গ্রামের মানুষকে নিত্যদিন কৃষিপণ্য বিপণন, চিকিৎসা ও শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যেতে হয় দক্ষিণ দিকের বমু পুকুরিয়া গ্রাম হয়ে সদর উপজেলা লামা। দক্ষিণ দিকেরও ৪টি গ্রামের মানুষকে নানা কাজে যাতায়াত করতে হয় নদীর অপর দিকের গ্রামগুলোতে। আরও এই সেতুটি নির্মাণ করা হলে লামা উপজেলা সদর হতে সরাসরি ভিতরে রাস্তা দিয়ে গজালিয়া বাজারও যাতায়াত করা যাবে।

প্রয়োজনের তাগিদে স্থানীয়রাই সাময়িক বাঁশের ভেলা ও ডিঙি নৌকা দিয়ে ছোট এই নদী কোনো রকমে যাতায়াত করেন। শত বছরের খেয়া ঘাট দিয়ে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও আজও সুনজর পড়েনি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের।

ফলে উভয় পাড়ের মানুষের সেতুবন্ধন অধরাই রয়ে গেছে।চরপাড়া গ্রামের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মিজানুর রহমান, স্কুলছাত্রী মেহেরুনেচা,জন্নাত আরা ও মিরাজ জানায়, বর্ষার মৌসুমে ভারি বর্ষণে আমাদের ফাদু খাল উজান থেকে পানি এসে নিচে তলিয়ে যায়। তখন আমাদের কষ্টের সীমা থাকে না। আমাদের এই এলাকার শতাধিক ছাত্র ছাত্রী লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়,লামা মাদ্রাসা,মাতামুহুরী কলেজ,শহীদ আব্দুল হামিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের খাল পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। আরও নদীতে পানি বেশি থাকলে অনেক সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারি না।

বড় পাড়া ও চর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা উনুমং মার্মা, সুইচিং মার্মা ও আলী আহমদ জানান, সরকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আমাদের সবার জন্য একটি ব্রীজ তৈরী করে দিলে অনেক ভাল হয়।
তারা আরও জানান রাতে খালে পানি বেশি হলে যেকোনো সময় পার হতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা এলাকাবাসীর।

সেক্ষেত্রে ক্রংতং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজিব চক্রবর্তী বলেন, লামা উপজেলা শহর থেকে অত্র জনপথের সেতুগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সেতু ফাদু খালের উপর হবে। ফাদু খাল (ছোটনদী) ওই সেতুর আশপাশে কম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ৩ ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও ফাদু খালের উপর সেতুটি আজও নির্মাণ করা হয়নি। এলজিইডি থেকে বার বার আশ্বাস দিলেও সেতুটি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেনি কেউ।

স্থানীয় কৃষক হাফেজ আহমেদ,নুর মোহাম্মদ,ব্যবসায়ী সন্নাসী মার্মা ও শেখ তোফায়েল উদ্দীন জানান, বর্ষার সময় এই খালে পানি উজান থেকে আসলে অনেক দূরের রাস্তা ঘুরিয়ে যাতায়াত করতে হয়। তাতে আমাদের কষ্ট ও সময় বেশি হয়। নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়ে কৃষক, ব্যবসায়ী ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাও।

গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাথোয়াইচিং মার্মা জানান, শত বছরের পুরাতন এই খেয়া ঘাটটিতে আজও একটি সেতু নির্মাণ করা হয়নি। সেতুটি নির্মাণ হলে দুই অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এর সুফল ভোগ করবে। শিগগিরই সেতুটি নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

লামার এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো.মাহফুজুল হক বলেন, এবারে ফাদু খালের উপর সেতু নির্মাণে প্রস্তাব পাঠানো হয়নি। আগামীতে দেখে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

 

 

#চলনবিলের আলো / আপন

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।