বরিশালের আগৈলঝাড়ায় হঠাৎ করেই ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।উপজেলা স্বস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮জুন থেকে ৪দিনে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে ১৬জন রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়াও আউটডোরে প্রতিদিন ২০থেকে ২৫জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঠান্ডা আর গরম এমন বৈরী আবহাওয়ার কারনে দিন দিন ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ঠ চিকিৎসকেরা।
মহামারি করোনাকালে হঠাৎ করে উপজেলা জুড়ে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
গত চার দিনে উপজেলার রাংতা গ্রামের হানিফ আকনের স্ত্রী বেবী বেগম (৩০), পূর্ব সুজনকাঠি গ্রামের খোকন মোল্লার নয় মাসের মেয়ে আয়শা আক্তার, একই গ্রামের ফরহাদ মোল্লার দেড় বছরের ছেলে ফারহান, সাতলা গ্রামের মিলন হাওলাদারের নয় মাসের ছেলে তাজিম, ধানডোবা গ্রামের হরিদাস বাড়ৈর স্ত্রী শোভা বাড়ৈ (৪৫), চেঙ্গুটিয়া গ্রামের নাজমুল ইসলামের স্ত্রী আফিয়া আক্তার (২৭), রাজিহার গ্রামের হারুন হাওলাদারের স্ত্রী সাথী বেগম (৫৫), ফুল্লশ্রী গ্রামের রুবেল সরদারের দশ মাসের ছেলে আয়ান ইসলাম, আমবাড়ি গ্রামের সুশান্ত সরকারের ছেলে দৃশ্য সরকার, বাশাইল গ্রামের সঞ্জয় রায়ের সাত মাসের ছেলে সার্থক রায়, আস্কর গ্রামের জগদীশ সাহার দেড় বছরের ছেলে জয় সাহা, কাঠিরা গ্রামের কিরন হালদারের স্ত্রী শিখা হালদার (৪৫), বড় বাসাইল গ্রামের সঞ্জয় ঢালীর সাত মাসের ছেলে সার্থক ঢালী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। এছাড়াও নিয়মোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চেঙ্গুটিয়া গ্রামের জহিরুল ইসলামের চার মাসের মেয়ে মীম আক্তার, সাতলা গ্রামের মনিরুজ্জামান বালীর দুই বছরের ছেলে সাজিদ বালী, পিরেরপাড় গ্রামের মাধব মহুরীর আড়াই বছরের ছেলে দুরন্ত মহুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। আউডডোরে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বখতিয়ার আল মামুন বলেন, আবহাওয়া জনিত পরিবর্তন ও নিরাপদ খাবার গ্রহন না করার কারণেই ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে। চলতি জুন মাসের শুরু থেকে করোনার পাশাপাশি ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এই রোগ থেকে রেহাই পেতে হলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। বিশেষ করে সবাইকে নিরাপদ খাবার গ্রহণ ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। উপজেলা হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর জন্য সব ধরনের ঔষধ ও স্যালাইন পর্যাপ্ত পরিমানে সরবরাহ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন রোগীরা হাসপাতালে ভর্তির সাথে সাথেই সব ধরনের ঔষধ পাচ্ছে।
#চলনবিলের আলো / আপন