গাইবান্ধায় বিগত সময়ের আলোচিত ব্রাশফায়ারে নিহত ছাত্রলীগ নেতা শহীদ বিপ্লবের পিতা আব্দুল লতিফ সরকার ব্রেইন স্ট্রোক ও প্যারালাইজড হয়ে বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
গত ৭ মে শুক্রবার রাতে নিজ গ্রামের বাড়ীতে নামাজরত অবস্থায় তার ব্রেইন স্ট্রোক হয়৷ বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ৯ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে ৷
তিনি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের তালুককানুপুর ইউনিয়নের বেড়ামালঞ্চা গ্রামের মরহুম নুরুল ইসলামের ছেলে ও পলাশবাড়ী প্রেসক্লাব যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক আশরাফুজ্জামানের শ্বশুর ৷
কর্মজীবনে তিনি প্রথমে সাব- রেজিষ্ট্রার অফিসের ক্লার্ক (নকলনবীশ) হিসেবে দায়িত্বপালন করেন, পরবর্তীতে সেটেলমেন্ট অফিসের মৌসুম ভিত্তিক অস্থায়ী বদর আমিন হিসেবে চাকুরী করেন ৷
তিনি বেশ কিছুদিন উপজেলা ভুমি অফিসের সাপোর্ট স্টাফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন ৷ সাব-রেজিষ্টার অফিসে কর্মরত থাকাকালীন তার বড় ছেলে তৎকালীন কোমরপুর আঞ্চলিক শাখা ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক ওয়ালিউল আহাদ বিপ্লব ৯৬ সালের ২৬শে মার্চ গোবিন্দগঞ্জ শহীদ মিনারে পুস্পমাল্য অর্পণ করে বাড়ী ফেরার পথে কালিতলা ব্রীজের সন্নিকটে বিএনপি- জামাত জোট সরকারের সন্ত্রাসীদের হাতে ব্রাশ ফায়ারে নির্মমভাবে নিহত হন ৷
ছেলের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে তিনি দীর্ঘদিন মানসিক যন্ত্রনায় অসুস্থ্য হয়ে সাব রেজিষ্ট্রার অফিস থেকে চাকুরীচ্যুত হন ৷ সেই সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মরহুম ছাত্রলীগনেতা শহীদ বিপ্লবের পরিবারকে সামান্য আর্থিক অনুদান দিয়ে শহীদ পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগকে শহীদ পরিবারের খোঁজ খবর রাখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন ৷
কিন্তুুু বিধি বাম, কে রাখে কার খবর ? সময়ের পরিক্রমায় সবাই ভুলে গিয়েছে পরিবারটিকে দেয়া কথা ৷ এক সময় খোঁজ খবর নিতেন সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ ৷ তিনি প্রতি বৎসর ২৬শে মার্চে নিহত বিপ্লবের এলাকা বাসুদেবপুরে তার স্মৃতিচারনে শহীদ বিপ্লব স্মৃতি সংসদ এর ব্যানারে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন ৷ কিন্তুু বর্তমান সংসদ সদস্য কোনদিনও খোঁজও নেননি জীবন উৎসর্গকারী একজন সফল সৈনিক শহীদ পরিবারটির কথা ৷
তার জামাতা সাংবাদিক আশরাফুজ্জামান শ্বশুরের অসুস্থ্যতায় রোগ মুক্তি চেয়ে সকল বন্ধু বান্ধব সহ পরিচিত সকলের নিকট দোয়া কামনা করেছেন ৷
#আপন_ইসলাম