বুধবার , ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৪ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - শীতকাল || ৯ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

শেবাচিমের করোনা ইউনিটের বর্জ্য ভাঙ্গারির দোকানে

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১

বরিশাল দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহত চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ভেঙে পরেছে। কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাস্ক, গ্লোভস, সিরিঞ্জসহ প্লাস্টিকের নানান বর্জ্য হাতবদল হয়ে যাচ্ছে ভাঙারি দোকানে। যা আবার পরিবহন করে পাঠানো হচ্ছে রাজধানীসহ বিভিন্নস্থানের ক্রেতার কাছে। এতে ঊর্ধ্বমুখী করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে একে অপরকে দুষছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সিটি কপোর্রেশন। সিটি মেয়র বলছেন, বর্জ্য অপসারণের দায়িত্ব হাসপাতালের। আর হাসপাতাল বলছে, নগর কর্তৃপক্ষের। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও সেবা দানকারী সংস্থার মধ্যে রশি টানাটানির মধ্যে নগরীতে করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। পরিসংখ্যান বলছে, পুরো বরিশাল বিভাগের চেয়ে সিটি কপোর্রেশন এলাকায় রোগী শনাক্ত হচ্ছে প্রায় চারগুণ। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালের করোনা ইউনিটের বর্জ‌্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি সমাধান না হলে সংক্রমণ আরও বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শের-ই-বাংলা মেডিক্যালের করোনা ইউনিট ভবনের সামনে কয়েক টন বর্জ্য স্তুপ করে রাখা। এরমধ্যে রয়েছে করোনা রোগীদের ব্যবহার করা গ্লোভস, মাস্ক, বিছানার চাদর, সিরিঞ্জ, পানির বোতল, রোগীর পোশাকসহ নানান প্লাস্টিক সামগ্রী। হাসপাতালের স্টাফ ক্যান্টিনের পেছনেও রয়েছে এমন বর্জ্য। ষাটোর্ধ্ব রহিম মিয়া করোনা ইউনিটের সামনের বর্জ্য সংগ্রহ করছেন। তার সাথে নেই কোনো সুরক্ষা সামগ্রী, মুখে মাস্ক পর্যন্ত নেই তার।

করোনা ইউনিটের এসব বর্জ্য তিনি কেন সংগ্রহ করছেন জানতে চাইলে রহিম মিয়া বলেন, এহান দিয়া প্লাস্টিকের বোতল, কাগজ আরও অনেক কিছু লইয়া ভাঙারির দোকানে বেচি। যে ভাঙারির দোকানে তিনি এসব বজর্য বিক্রি করেন, কথা হয় সে দোকানের এক কর্মচারীর সাথে। তারা বলেন, গ্লোভস ও প্লাস্টিক-জাতীয় জিনিসগুলো কিনে নিয়ে তা পূণরায় ঢাকার কাস্টমারদের কাছে বিক্রি করা হয়। ক্রেতা বা প্রতিষ্ঠানের নাম কী এমন প্রশ্নে তারা বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি। পাওয়া যায়নি দোকান মালিককেও।

অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, হাসপাতালের বর্জ্য সংগ্রহ করে সিটি কপোর্রেশন। কিন্তু গতবছর হাসপাতালে করোনা ইউনিট চালু করার পর থেকে সিটি কপোর্রেশন বিনা ঘোষণায় বর্জ্য সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছে। হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক বাকির হোসেন জানান, হঠাৎ কেন বর্জ্য সংগ্রহ বন্ধ করে দেয়া হলো, কেনই বা চালু করছে না, তা একাধিকবার জানতে চাইলেও সিটি কপোর্রেশনের কাছ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। তারা শুধু জানিয়েছে, হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বর্জ্য সংগ্রহ ও ধ্বংস করতে হবে। এরপর থেকেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিপাকে পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সদ্যযোগদান করা হাসপাতালের পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, সিটি কপোর্রেশনের এসব বর্জ্য অপসারণ করার কথা। কিন্তু তারা তা করছে না। বর্তমানে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে আমরা মাটি খুঁড়ে বজর্যগুলো চাঁপা দেয়ার চেষ্টা করছি। তিনি আরও বলেন, পযার্প্ত জনবল না থাকায় ও করোনা ইউনিটে এখন রোগী বাড়ায় টনের পর টন বর্জ্য সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

শের-ই-বাংলা মেডিক্যালের আউটডোর ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৌরভ সুতার বলেন, এমনিতেই হাসপাতালের বর্জ্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তা যদি হয় করোনা আক্রান্ত রোগীর, সেগুলোতো আরও মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব বর্জ্য পুড়িয়ে বা মাটিচাঁপা না দিলে যে কেউ সহজেই সংক্রমিত হতে পারে।

এ ব্যাপারে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, বর্জ্য অপসারণের দায়িত্ব মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষের। মেডিক্যালের বর্জ্য মেডিক্যালেই ধ্বংস করতে হবে। ওই বর্জ্য নিয়ে বর্জ্যের গাড়িগুলো সারা নগরীতে ঘুরে নগরবাসীকে হুমকির মধ্যে ফেলবে আমি তা হতে দেবোনা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সিটি কপোর্রেশনের মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টার কথা জানিয়ে জেলা সি‌ভিল সার্জন ডাঃ মনোয়ার হো‌সেন ব‌লেন, শুধু শের-ই-বাংলা মে‌ডিক্যালই নয়; এখন সদর জেনা‌রেল হাসপাতা‌লের বর্জ‌্যও নিচ্ছে না সি‌টি ক‌র্পোরেশন। নিয়মানুযায়ী হাসপাতা‌লের বর্জ‌্য অপসারণ কর‌বে সি‌টি ক‌র্পোরেশন। কিন্তু সেটা করা হ‌চ্ছেনা। তিনি বলেন, গত বৃহস্প‌তিবার এক‌টি অনলাইন বৈঠকে এ বিষয়টি তোলা হয়। সেখানে ছিলেন বিভাগীয় ক‌মিশনার, সিটি মেয়র ও বিভাগীয় স্বাস্থ‌্য প‌রিচালক। ওই বৈঠকেও সিটি মেয়র সরাসরি ব‌লেছেন, তিনি বর্জ‌্য নি‌তে পার‌বেন না। বর্জ‌্য নি‌লে তার কর্মীরা আক্রান্ত হ‌বে। এখন ক‌র্পোরেশন বর্জ‌্য না নি‌লে কী করার আছে। সমস‌্যা সমাধা‌নে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

 

#CBALO/আপন ইসলাম

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।