বরিশালের আগৈলঝাড়ায় স্ত্রী’র সাথে দাম্পত্য বিবাদের জের ধরে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা করতে চাওয়া সাগর ফকির ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে আইসিইউ’তে তিন দিন যাবত মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। সাগরকে বাচাতে গিয়ে গুরুতর আহত তার চাচাতো ভাই রমজান ফকিরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগৈলঝাড়া হাসপাতাল থেকে রবিবার ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আহত মা আমেনা বেগম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
সাগরের পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাকাল গ্রামের ভ্যান চালক লিয়াকত ফকিরের ছেলে দিন মজুর সাগর ফকির (২৫) শুক্রবার বিকেলে তার শ্বশুর বাড়ি মাদারীপুরে থাকা স্ত্রী রাশিদা বেগমের (২০) সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলো। দীর্ঘ দিন যাবত রাশিদা তার দুই মেয়ে নিয়ে তার বাবার বাড়ি মাদারীপুরের খোয়াজপুর টেকেরেহাট অবস্থানের সময়ে সাগরও সেখানে থেকে জমিজমা চাষাবাদ করতো। অতি সম্প্রতি সাগরেক রাশিদা তার বাবার বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলে সাগর নিজের বাড়ি চলে আসে। ভ্যান চালক পিতার দুঃখ কস্ট দেখে নিজে খুলনায় জাহাজের মালামাল ওঠানামার শ্রমিকের কাজ নেয়। সাগর ফোনে তার সন্তানদের নিয়ে স্ত্রীকে নিজের বাড়ি আসার জন্য তাগিদ দিয়ে আসলেও স্ত্রী রাশিদা স্বামীর বাড়িকে ফিরতে অনীহা প্রকাশ করে আসছিলো। ঘটনার দিন শুক্রবার বিকেলে সাগর বাড়ি বসে তার স্ত্রীকে বাড়ি আসতে বললে স্ত্রী রাশিদা তার বাবার টাকার তোলা ঘর বিক্রি করে সেই টাকাসহ বিয়ের কাবিন নামার টাকা পরিশোধ করার কথা জানিয়ে সাগরের সাথে ঘর সংসার করবে বলে জানায়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সাগর ঘরের দরজা বন্ধ করে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় ওই বাড়িতে কাজ করা মিস্ত্রীরা আগুন দেখে চিৎকার করলে লোকজন ছুটে আসে। সাগরকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার চাচাতো ভাই রমজান ফকির আগুনে ঝলসে যায়। এসময় সাগরের মা আমেনা বেগমেরও দুহাত আগুনে পুড়ে যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকেরা সাগরকে তাৎক্ষনিক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেন। অগ্নিদগ্ধ সাগর বর্তমানে শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটের আইসিইউ’তে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এদিকে আগুনে পুড়ে যাওয়া রমজানকে তিন দিন চিকিৎসা শেষে রবিবার আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। আহত মা আমেনা বেগম হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
রবিবার পর্যন্ত সাগরের স্ত্রী রাশিদা বেগম বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলো বলে জানিয়েছেন রাশিদা। রাশিদা ফোনে তার সাথে সাগরের ঝগড়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, তিনি তাকে বাবার বাড়ি থেকে আনতে সাগরের বাবাকে পাঠাতে বলেছিলেন।
খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলেই এসআই শরিফুল ও এসআই নূর আলম ঘটনাস্থর পরিদর্শন করেছেন।
এসআই নূর আলম জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
#CBALO/আপন ইসলাম