পরিবারের সদস্য সংখ্যা দুইজন। মায়ের বয়স আশি উর্ধ্বে আর ছেলে জন্মগত ভাবে বাক প্রতিবন্ধী। সংসারে নেই আয়ের কোন উৎস। ওয়ারিশ সূত্রে একশ শতাংশ জায়গায় একটা ভাঙা চালের নিচে কোন রকম রাত্রি যাপন করেন সাহারা খাতুনের পরিবার। এর পরেও এই পরিবার ছিলো না সরকারী কোন সুযোগ সুবিধার আওতায়। যদিও পরিবারটির বসবাস স্থানীয় বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান এর বাড়ির পাশে। অবশেষে সেই সাহারা খাতুনের পরিবার আসলো সরকারি সকল সুযোগ সুবিধার আওতায়৷ নতুন করে জীবন শুরু করার স্বপ্ন পূরন হলো কষ্টে ও অনাহারে চলা আসহায় পরিবারটির। বুধবার (২৪ মার্চ) নান্দাইল উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ এরশাদ উদ্দিন পরিবারের দুইজনকেই ভাতার কার্ডের ব্যাবস্থা করে দিলেন। কার্ড পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে মা ও ছেলে কেঁদে দিলেন।
নতুন ভাবে জীবন শুরু করা স্বপ্ন দেখা পরিবারটি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাও ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সিংদই গ্রামের অসহায় ও দরিদ্র বিধবা সাহারা খাতুন ও তার ছেলে জন্মগত বাক প্রতিবন্ধী জমির উদ্দিন। সাহারা খাতুনের দিনমজুর স্বামী মারা যাওয়ার পর সহায় সম্বলহীন অসহায় সাহারা খাতুন ছেলেকে নিয়ে বেকায়দায় পড়েন। এ অবস্থায় নিজে ভিক্ষা করে সন্তানকে নিয়ে কোনোমতে জীবন পার করছেন। এর মধ্যে সরকার এ সব অসহায়দের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করলেও কখনো ভাগ্যে জোটেনি। বেশ কয়েকবার স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বার ছাড়াও সরকারি দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দ্বারস্থ হলেও কোনো কাজে আসেনি। সাহারা খাতুনের কাছে সরকারী ভাতা পাওয়ার স্বপ্নটা অপূরনীয় মনে হয়েছিল।
পরে স্থানীয় সাংবাদিক এইচএম সাইফুল্লাহ ও ছাত্রলীগ কর্মী নাইম ইসলাম দুর্জয় এর হাত ধরে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক দুটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা কার্ড, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির চালের কার্ড, মানবিক সহায়তা কর্মসূচির নগদ টাকা দেয়া হয়েছে। এছাড়া অসহায় এই মা ও তার প্রতিবন্ধী ছেলেকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে দ্রুত একটি ঘর করে দেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। এ বিষয়ে আঁচারগাও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন কাইয়ুম বলেন, ওই পরিবার আমার সাথে যোগাযোগ করেন নাই।
#CBALO/আপন ইসলাম