শনিবার , ২৯শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ || ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - হেমন্তকাল || ৮ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

আগৈলঝাড়ায় বিভিন্ন আয়োজনে প্রথম বারের মতো পাক হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২০

রুবিনা আজাদ, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, বরিশাল:
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সহযোদ্ধাদের স্মরণ ও রুহের মাগফিরাত কামনা, আলোচনা সভা ও মিস্টি বিতরণের মধ্য দিয়ে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় স্বাধীনতার পরবর্তী মুজিব বর্ষে এই প্রথম বারের মতো পালিত হলো পাক হানাদার মুক্ত দিবস।

দিবসটি পালন উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সামনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। পরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধারে স্মরণে নীরবতা পালন, তাঁদের রুহের মাগফিতার কামনা করা হয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের হল রুমে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউসিলের অতিরিক্তি দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল হাশেম মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধ ও পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের আত্মসমর্পণের প্রত্যক্ষদর্শী যেদ্ধা হিসেবে স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা সহকারী ইউনিট কমান্ডার (প্রচার), উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসণ কমান্ডার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি, উপজেলা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক, উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত। অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটন।


’৭১এর পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পনের স্মৃতি চারণে আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত বলেন, সারাদেশ ১৬ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয়ে বিজয় উল্লাম করলেও গৌরনদী-আগৈলঝাড়া হানাদারমুক্ত হয় এর ছয় দিন পরে ২২ডিসেম্বর। বর্তমান আগৈলঝাড়া থানা ছিলো তৎকালীন গৌরনদী থানার অন্তভর্‚ক্ত। মুজিব বাহিনীর প্রধান আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর (এমপি) নেতৃত্বে ৮ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয় বরিশাল শহর। বর্তমান গৌরনদী সরকারী কলেজে ঘাটি করা পাক হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ না করায় মুজিব বাহিনী ও নিজাম বাহিনীর সদস্যরা ২৮ দিন যুদ্ধের পরে তাদের ঘাটি ঘিরে রেখেছিলো। ১৯ ডিসেম্বর পাক বাহিনীর সাথে আত্মসমর্পণের আলোচনা হলেও ২০ ডিসেম্বর পাক বাহিনী পুণরায় গুলি চালায়। পরে তারা মুজিব বাহিনীর দুর্ধর্ষ যোদ্ধা রকিব সেরনিয়াবাতের মাধ্যমে সরকারী বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পনের কথা জানালে তাদের সাথে আলোচনা করার জন্য স্থানীয় ইমাম শাহজানকে রকিব সেরনিয়াবাত সাজিয়ে কলেজের ঘাটিতে পাঠান মুক্তিযোদ্ধারা। আলোচনা ফলপ্রসু হওয়ায় ২২ডিসেম্বর সকালে ফরিদপুর থেকে মিত্র উর্ধত অফিসাররা গৌরনদী ঘাটিতে আসলে পাক বাহিনীর ৩জন মেজরসহ তাদের অনুগত শতাধিক সেনা ও দেশীয় দোসরেরা মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। অর্জিত হয় মুক্তিযুদ্ধের কাক্সিখত চুড়ান্ত বিজয়। হাত উচিয়ে গুলি ফুটয়ে বিজয় উল্লাসে ফেটে পরেন মুক্তিযোদ্ধারা।

হানাদার মুক্ত দিবসের আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার আইয়ুব আলী মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক সরদার, আবু বকর সিদ্দিক, মো. ফারুক আহম্মেদ, বরিশাল জেলা পরিষদ সদস্য এ্যাডভোকেট রনজিত সমদ্দার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক  জাকির পাইকসহ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাগন।

 

CBALO/আপন ইসলাম

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।