[bangla_day] , [english_date] || [bangla_date] - [bangla_season] || [hijri_date]

নান্দাইলে জেএমজে অ্যাপে কোটি টাকা বিনিয়োগ, উধাও প্রতারক চক্র

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আসুন আমরা যত্ন ছড়িয়ে দেই, সুযোগ তৈরি করি এবং একসঙ্গে একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি এমন স্লোগান সামনে রেখে ময়মনসিংহের নান্দাইলে জেএমজে (JMJ) নামের একটি মোবাইল অ্যাপে বিনিয়োগের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের লভ্যাংশ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। চক্রটি উধাও হয়ে যাওয়ায় সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১ নভেম্বর নান্দাইল পৌরসভার চণ্ডীপাশা ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সিনেমা হল সংলগ্ন একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে চক্রটি। স্থানীয় কুরাটি গ্রামের ইছমত জাহান তাপসী নামে এক নারীর মাধ্যমে ‘জেএমজে’ অ্যাপটির প্রচারণা চালানো হয়। মূলত স্মার্টফোন ব্যবহারকারী তরুণ-তরুণীসহ এলাকার সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা হতো।

গ্রাহকদের বলা হতো, ৩ হাজার টাকা বিনিয়োগে প্রতি সপ্তাহে ১৫৪ টাকা, ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৪৮০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১৪ লাখ টাকা বিনিয়োগে প্রতি সপ্তাহে ৫৮ হাজার টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ পাওয়া যাবে।

শুরুতে অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই টাকা উত্তোলনের সুযোগ দিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা তৈরি করে চক্রটি। পরবর্তীতে গ্রাহকদের বিশ্বাস আরও বাড়াতে প্রায় দেড় মাস আগে চণ্ডীপাশা এলাকায় জেএমজে কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার নামে একটি নতুন অফিস চালু করা হয়। সেখানে নিয়মিত সভা, মতবিনিময় এবং বিভিন্ন সময় দামি রেস্তোরাঁয় মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হতো। এর মাধ্যমে দ্রুত গ্রাহক সংখ্যা বাড়ানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে অ্যাপের সার্ভারে জটিলতার কথা বলে গ্রাহকদের এড়িয়ে চলতে শুরু করে সংশ্লিষ্টরা। এতে সন্দেহ তৈরি হলে ২২ সেপ্টেম্বর কয়েকজন গ্রাহক অফিসে গিয়ে দেখতে পান, প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। পরে তালা খুলে ভেতরে ঢুকে আসবাবপত্রসহ কোনো মালামালই পাওয়া যায়নি। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আহাজারি শুরু হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অধিক লাভের আশায় ময়মনসিংহের পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকার মানুষও এই অ্যাপে টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন।

কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা জুলহাস সুজন, স্থানীয় জুবায়ের হোসেন ও সুরাইয়া ইয়াসমিন বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের সদস্য হতে জাতীয় পরিচয়পত্র বা ছবির প্রয়োজন হতো না। শুধু স্মার্টফোন ও নগদ টাকা দিলেই সদস্য হওয়া যেত। বেশি লাভের আশায় আমরা আমাদের জমানো পুঁজি বিনিয়োগ করেছিলাম। এখন অফিস তালাবদ্ধ, অ্যাপও বন্ধ।

অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা ইছমত জাহান তাপসীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের দাবি, অ্যাপটির কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই তাপসী একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে নিয়মিত চলাফেরা করতেন।

এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, একটি প্রতারক চক্র বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, কথিত জেএমজে অ্যাপে বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের আইনের আওতায় এনে বিনিয়োগের অর্থ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।