বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন

১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টা: ভাঙ্গুড়ায় ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

চলনবিলের আলো ডেস্ক:
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. সোহেল রানার স্ত্রী মোছা. শিখা খাতুন,সোমবার(৮ জুন) ২০২৬ পাবনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী-৪ নং আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা সোহেল রানার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় পরিকল্পিতভাবে তাকে অপহরণ করে নির্মম নির্যাতন চালানো হয় এবং হত্যার চেষ্টা করা হয়।

মামলার আসামিরা হলেন— পাথরঘাটা গ্রামের মৃত ময়দান প্রামাণিকের ছেলে ও ছোট বিশাকোল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা (৩৬), রাঙ্গালিয়া গ্রামের মৃত আক্কাস আলীর ছেলে আজাদ মাস্টার (৩০), মৃত সাইদুল ইসলামের ছেলে কাজল (৩২), মৃত আজিজুল হকের ছেলে আব্দুল জলিল (৪০), মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে জুয়েল (২৮), ওহেদ আলীর ছেলে আমিরুল ইসলাম (৩৫), মোহাম্মদ আলীর ছেলে মনিরুল ইসলাম (২২), সেকেনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৫১), তার ছেলে হাসান আলী (২৩) এবং ওসমান আলীর ছেলে রুবেল (২৫)।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুন শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্যবসায়িক কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ভাঙ্গুড়া বাজার সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে একদল ব্যাক্তি সোহেল রানার পথরোধ করে। পরে তার চোখ-মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে জোরপূর্বক পাশের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে নিয়ে গিয়ে প্রধান আসামি মাসুদ রানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাত্র ১০ লাখ টাকা চেয়েছি, তাও দিতে চায় না। এরপর তিনি অন্যদের সোহেল রানার হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নির্দেশ পাওয়ার পর অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় চোখ-মুখের বাঁধন খুলে গেলে আজাদ মাস্টার লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলে তার ডান হাত গুরুতরভাবে আহত হয়। এছাড়া ডান চোখেও গুরুতর আঘাত পান তিনি।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, আসামি কাজল কাঠের বাটাম দিয়ে তার বুক ও পিঠে আঘাত করেন এবং অন্য আসামিরাও কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে তাকে গুরুতর জখম করে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার সময় সোহেল রানার কাছে থাকা নগদ ৩১ হাজার ৭০০ টাকা এবং প্রায় ৪ হাজার টাকা মূল্যের একটি রূপার ব্রেসলেট ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার আগে তারা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলে যায়, আজ অল্পের জন্য বেঁচে গেছে, পরে সুযোগ পেলে শেষ করে দেওয়া হবে।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় সোহেল রানাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর