রবিবার , ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ২৬শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

আটঘরিয়ার হাড়লপাড়া ও শ্রীকান্তপুরে ফসলি জমির মাটি কাটার মহোৎসব, হুমকির মুখে কৃষি ও পরিবেশ

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কাটার মহোৎসব চলছে। আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দিন-রাত আবাদি জমির মাটি কেটে সাবাড় করছে।
এতে একদিকে যেমন হ্রাস পাচ্ছে কৃষিজমি, অন্যদিকে ভারী ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টরের অবাধ চলাচলে গ্রামীণ সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন।
​সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের হাড়লপাড়া এলাকার মটরবিলে ও দেবোত্তর ইউনিয়নের শ্রীকান্তপুর গ্রামে বিস্তীর্ণ মাঠ থেকে এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। এসব মাটি চলে যাচ্ছে স্থানীয় বিভিন্ন ইটভাটায় ও নিচু জমি ভরাট এবং বাড়ির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীর করে মাটি তোলায় পাশের জমিগুলোও ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অভিযোগ করে স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রভাব শালীচক্রের চাপে অনেক সময় সাধারণ কৃষকরা জমি রক্ষায় অসহায় হয়ে পড়ছেন।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “যেভাবে মাটি কাটা হচ্ছে, তাতে আগামী কয়েক বছরে এখানে আর চাষবাস করার উপায় থাকবে না। ট্রাক্টরের ধুলোয় রাস্তার ধারের গাছপালা পর্যন্ত মরে যাচ্ছে।”
মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত ‘কাকড়া’ ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাকের বেপরোয়া গতির কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এলজিইডির সড়কগুলো ধসে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এলাকায় ধুলোবালির কারণে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, জমির ওপরের স্তর বা টপ সয়েল একবার কেটে নিলে ওই জমির উর্বরতা ফিরে পেতে অন্তত ১০ থেকে ১২ বছর সময় লাগে। এভাবে গণহারে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে এলাকায় খাদ্য সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার জানান, “অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। এটি বন্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর।
সাধারণ মানুষ বা সচেতন মহলের কেউ যদি আমাদের তথ্য প্রদান করেন, আমরা সাথে সাথে সেখানে অভিযান পরিচালনা করার আপ্রাণ চেষ্টা করি। জনস্বার্থে এই অভিযান আগামীতে আরও জোরদার করা হবে।
​স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কেবল লোক দেখানো জরিমানা নয়, ফসলি জমি রক্ষায় মাটি কাটা সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।