পাবনার ঈশ্বরদীতে মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজি,খাস-জমি দখল, দেহ ব্যবসায়ী, সুদখোর “বস্তিপাড়ার অন্ধকারের রানী” নামে পরিচিত মুখ আলেয়া বেগমের (৩৬) চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশ পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন অভিযোগকারীর ৫ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পৌর শহরের পূর্ব নুর-মহল্লার বস্তিপাড়া এলাকা ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গরুর খামারি ব্যবসায়ী মোঃ আসাদুল ইসলাম বলেন, আলেয়া বেগমের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে এখন নিজেদেরকেই নিরাপত্তাহীনতায় পালিয়ে থাকতে হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো হলেন, বস্তিপাড়া এলাকার মো. কাজল হোসেন, আসাদুল ইসলাম ওরফে তরমুজ আসাদুল, মো. হেলালের স্ত্রী মোছা. নিপা খাতুন, দীপা রাণী, মোঃ আসাদুল ইসলাম।। থানায় দায়ের করা অভিযোগ ও এলাকাবাসীর সুত্রে জানা যায়, পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের শাসন আমলে ১৭ বছর উপজেলার পৌর শহরের পূর্ব নুর-মহল্লার বস্তিপাড়ায় যুব মহিলালীগের নেত্রী বর্তমান যুব মহিলা দলের সভানেত্রী হিসেবে পরিচিত মুখ মোছাঃ আলেয়া বেগম। রিক্সা চালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দীর্ঘদিন এই আলেয়া বেগম নারী পাচার, দেহ ব্যবসা সহ চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছেন। ৫ জুলাইয়ের পর থেকে আলেয়া বেগম খোষ পাল্টিয়ে পৌর যুব মহিলা দলের নেত্রী হিসেবে স্থানীয় বিএনপির কতিপয় নেতাদের ছত্রছায়ায় অপরাধমুলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর এসব অপকর্ম তুলে ধরে একটি সরকার নিবন্ধিত পত্রিকায় নিউজ ছাপা হলে আলেয়া বেগমের নেতৃত্বে তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী সেই পত্রিকার প্রতিনিধি মো. মুশফিকুর রহমান মিশন নামে এক স্থানীয় সাংবাদিককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করারও অভিযোগ রয়েছে এই আলেয়া বেগমের বিরুদ্ধে।
এছাড়াও আলেয়া বেগমের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে গ্রেফতারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে বস্তির অন্ধকারের রাণী আলেয়া বেগম এর বিরুদ্ধে একদিনেই ৫টি অভিযোগ থানায় দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী মোঃ আসাদুল ইসলাম জানান, থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও রহুস্যজনক কারণে পুলিশ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী আলেয়া বেগম ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহন করছেন না। মোছাঃ নিপা খাতুন জানান, মাদক সম্রাজ্ঞী আলেয়া বেগমের নানান ধরনের কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় আমার স্বামীর বিরুদ্ধে তিনটি মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজত খাটিয়েছেন। এলাকার কেউ এখন তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস করছেন না। ঈশ্বরদী থানার দায়িত্বরত এএসআই মো. রিপন জানান, আলেয়া বেগমের বিরুদ্ধে মোট ৫ টি অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। আরো অনেকেই অভিযোগ দায়ের করার জন্য যোগাযোগ করেছেন ইতিমধ্যে। এবিষয়ে ঈশ্বরদী পৌর যুব মহিলা দলের সভানেত্রী মোছাঃ আলেয়া বেগম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, দেহ ব্যবসা আগে করতাম এখন বর্তমানে আমি ঠাকুরবাড়ি মন্দিরের সামনে পিঠা বিক্রি করে সংসার চালাই। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবণ কুমার জানান, আলেয়া বেগমের বিরুদ্ধে অনেকগুলো অভিযোগ থানায় এসেছে। অভিযোগ ও তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।