বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রিন্সিপাল (এক্স) ডা. মুন্সী মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
ডা. মুন্সী মোজাম্মেল হক বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন অবহেলিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সুসংগঠিত করতে জিয়াউর রহমান দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় একনেক সভায় “বাংলাদেশ হোমিও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প” অনুমোদন করেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকায় একটি সরকারি হোমিও মেডিকেল ডিগ্রি কলেজ, ১০০ শয্যার হাসপাতাল এবং একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পাশাপাশি খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে একটি করে হোমিও ডিপ্লোমা মেডিকেল কলেজ ও ৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ময়মনসিংহ হোমিও মেডিকেল কলেজের ভবন নির্মাণ ও আধুনিকায়নের জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ৫ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন, যাতে প্রতিষ্ঠানটিকে ডিগ্রি কলেজে উন্নীত করা যায়।
ডা. মোজাম্মেল হকের দাবি, জিয়াউর রহমান প্রচলিত সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাকে অন্তর্ভুক্ত করে জনগণের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটে হোমিও চিকিৎসক নিয়োগের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল।
তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর ঢাকায় সরকারি হোমিও মেডিকেল ডিগ্রি কলেজ ও হাসপাতাল ছাড়া প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পিত গবেষণা কেন্দ্র এবং খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের হোমিও ডিপ্লোমা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। ময়মনসিংহের হোমিও মেডিকেল কলেজের ভবন আংশিক নির্মিত হলেও প্রত্যাশিত উন্নয়ন সম্পন্ন হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে এ এম সি কতৃক কিছু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার পদে গ্রাজুয়েট হোমিও চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলেও প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি বা রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় গত দুই বছর ধরে এসব ইউনিট কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।এএমসি আওতায় ডিএইচএমএস ডাক্তারদের ৯০টি সহকারী মেডিকেল অফিসার পদ সৃষ্টি হলেও নিয়োগ হয়নি।
ডা. মুন্সী মোজাম্মেল হক আশা প্রকাশ করে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার রাষ্ট্র সংষ্কার ৩১ দফায় স্বাস্থ্যখাতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাকে আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেবে। তিনি মনে করেন, ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচির আওতায় হোমিও চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে জিয়াউর রহমানের গৃহীত কর্মসূচিগুলো বাস্তব রূপ পাবে।
লেখক পরিচিতি:
অধ্যক্ষ(অব.)ডা. মুন্সী মোজাম্মেল হক
সভাপতি
বৈষম্যবিরোধী হোমিও আন্দোলন বাংলাদেশ।
প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ-কাজী সিরাজুল ইসলাম হোমিও মেডিকেল কলেজ, আলফাডাঙ্গা, ফরিদপুর।