কক্সবাজার: মেয়ের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে নিজেই লাশ হয়ে ফিরলেন এক প্রবাসী জননী। কক্সবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে নিখোঁজের চারদিন পর উদ্ধার করা হয়েছে উখিয়ার গৃহবধূ কহিনূর আক্তারের (৩২) রক্তাক্ত ও অর্ধগলিত মরদেহ। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরের এই ঘটনায় পুরো হাসপাতাল এলাকায় চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিখোঁজ রহস্যের অবসান বনাম অব্যবস্থাপনার প্রশ্ন
গত বুধবার (৩ মার্চ) উখিয়ার রাজাপালং থেকে ৭ বছরের মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন কাতার প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী কহিনূর। সেদিন দুপুর ১টার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। পরিবার থানায় জিডি করলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে রটেছিল নানা কুৎসা। অথচ সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য— চারতলায় লিফটের দরজা কোনোভাবে হাতে টেনে খুলে ভেতরে পা বাড়িয়েছিলেন তিনি, কিন্তু সেখানে লিফট ছিল না। অন্ধকার গহ্বরে পড়ে গিয়েই ঘটে তার সলিল সমাধি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও গাফিলতির অভিযোগ
দীর্ঘ চারদিন ধরে একটি মরদেহ লিফটের নিচে পড়ে থাকলেও কেন কেউ টের পেল না, তা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন সচেতন মহল। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শান্তনু ঘোষ জানান:
“সকালে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আমরা নিশ্চিত হই তিনি লিফটের দরজা জোর করে খুলে ভেতরে ঢুকেছিলেন। ভোররাতে দুর্গন্ধ ছড়ালে কর্মচারীরা লিফটের নিচে তল্লাশি চালিয়ে মরদেহটি পায়।”
জনমনে প্রশ্ন: কার দায়?
লিফটের সেন্সর নষ্ট থাকা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়াকেই এই মৃত্যুর কারণ হিসেবে দেখছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, লিফটের দরজা খুললেও সেখানে বগি থাকে না— এমন মরণফাঁদ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেন আগে ব্যবস্থা নেয়নি?
নিহত: কহিনূর আক্তার (৩২), স্বামী- প্রবাসী নুরুল ইসলাম।
নিখোঁজ: ৩ মার্চ (বুধবার) দুপুর ১টা থেকে।
উদ্ধার: ৭ মার্চ (শনিবার), লিফটের নিচ থেকে।
বর্তমান অবস্থা: ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশি তদন্ত চলছে।