পাবনার চাটমোহর উপজেলার ধরইল গ্রামের মৎস্যজীবী পাড়ায় (বিলপাড়ের ধরইল মৎসজীবি পাড়া) প্রায় ৪০০টিরও বেশি পরিবার গত কয়েকদিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় বিরোধ ও সহিংসতার কারণে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিলকুরুলিয়া এলাকায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ওম্বর আলীর একটি অগভীর নলকূপ জবরদখলের চেষ্টা হয়। বাধা দিলে অভিযুক্ত রেজাউল, মজি, নূর ইসলামসহ কয়েকজনের সঙ্গে মারামারি হয়। এতে ওম্বর আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম আহত হন এবং তাকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) ওম্বর আলী ছেলেকে দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার পথে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একই গ্রুপের লোকজন তাকে বেধড়ক মারধর করে। আহত অবস্থায় তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এরপর থেকেই অভিযুক্তরা ধরইল মৎস্যজীবী পাড়ার বাসিন্দাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরিবারগুলো বাইরে বের হতে পারছে না, চলাচল বন্ধ রয়েছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১টায় মৎস্যজীবী পাড়ার শত শত নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করে। তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন।
বক্তব্য দেন ভূমিহীন নেতা আনোয়ার হোসেন, মৎস্যজীবী নেতা রায়হান আলী, চঞ্চল হোসেন, সিমা খাতুন, ইয়াসমিন খাতুন প্রমুখ।
সিমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ধানের শীষে ভোট দেওয়াই কি আমাদের অপরাধ? আমরা ও আমাদের ছেলেমেয়েরা বাইরে যেতে পারছি না। চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমরা সন্ত্রাসীদের বিচার চাই।”
অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য নূর ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, এসব ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।
চাটমোহর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নয়ন কুমার সরকার জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।