পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা, ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে।
২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিটে ভাঙ্গুড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। প্রথমে পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পর্যায়ক্রমে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে।
এছাড়াও ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ রায়হান আলীসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তারা মহান ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।এ সময় সকল ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, কালো পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ ধারণ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গান, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষা আজ বিশ্ব দরবারে মর্যাদাপূর্ণ স্থান লাভ করেছে।
বক্তারা আরও বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকেই পরবর্তীতে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা জাগ্রত হয়। তাই ভাষা শহীদদের আদর্শ ধারণ করে আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।