বৃহস্পতিবার , ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ঘুষের টেবিলে বন্দি অভয়নগর ভূমি অফিস

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
যশোরের অভয়নগর উপজেলা-র ভূমি অফিসগুলো এখন জনসেবার কেন্দ্র নয়, বরং ঘুষ বাণিজ্যের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে, এমন বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় স্থানীয় জনপদ। নামজারি (মিউটেশন), খতিয়ান সংশোধন, পর্চা উত্তোলন কিংবা সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত, প্রতিটি ধাপে অনিয়ম, দালালি ও প্রকাশ্য অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, টাকা না দিলে ফাইল নড়ে না, এ যেন অলিখিত নিয়ম।
সরকারি নির্ধারিত ফি কয়েক হাজার টাকা হলেও বাস্তবে নামজারির জন্য আদায় করা হচ্ছে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত, এমন অভিযোগ একাধিক ভুক্তভোগীর। দালাল ছাড়া সরাসরি আবেদন করলে ফাইল পড়ে থাকে মাসের পর মাস। কখনো ‘সার্ভেয়ার নেই, কখনো ‘তদন্ত বাকি, অজুহাতের শেষ নেই। এক সেবাপ্রার্থী ক্ষোভে বলেন, সরকারি অফিসে গিয়েও দালালের কাছে যেতে হয়। টাকা দিলেই সব ঠিক, না দিলে ফাইল গায়েব।
ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দযোগ্য সরকারি খাসজমি নিয়েও চলছে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ। প্রকৃত ভূমিহীনরা বছরের পর বছর আবেদন করেও জমি পান না। অথচ রাজনৈতিক প্রভাব ও টাকার জোরে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি একাধিক প্লট দখলে নিচ্ছেন, এমন অভিযোগে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।
অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত রিপোর্টে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব যোগ্যদের নাম বাদ দিয়ে অযোগ্যদের অন্তর্ভুক্তি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ফাইল অনুমোদন অভয়নগর উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে সক্রিয় একটি শক্তিশালী দালাল চক্র। তারা প্রকাশ্যেই সেবাপ্রার্থীদের ঘিরে ধরে দ্রুত কাজ করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে এই চক্রের যোগসাজশ রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ কার্যত জিম্মি।
দালালদের দৌরাত্ম্যে অনেকে সরাসরি অফিসে কথা বলতে সাহস পান না। সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ভয়ে বেশিরভাগ মানুষ মুখ খুলতে চান না।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, ভূমি অফিসে অনিয়মের কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, অভিযোগ দিলে আদৌ কি প্রতিকার মেলে?
ভূমি সংক্রান্ত সেবা নাগরিকের মৌলিক অধিকার। অথচ সেই সেবাই যদি ঘুষ-দালালির ফাঁদে আটকে যায়, তবে সাধারণ মানুষের ভরসার জায়গা কোথায়?
অভয়নগরের ভূমি অফিসে লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগ এখন জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত, দালালমুক্ত পরিবেশ এবং জবাবদিহিতামূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা নির্ধারিত ফি তালিকা প্রকাশ্যে প্রদর্শন অনলাইন সেবা কার্যকর ও স্বচ্ছ করা দালাল চক্রের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক অভিযান দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অভয়নগরের মানুষ এখন উত্তর চায়, জনসেবার অফিস কি ঘুষের আখড়াই হয়ে থাকবে, নাকি ফিরবে সুশাসন।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।