জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টরের অতিরিক্ত ভাড়া এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের কারণে আধুনিক কৃষিযন্ত্রের বিকল্প হিসেবে আবারও ঘোড়া দিয়ে হাল চাষে ফিরছেন কৃষকরা। দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে একসময় হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির ব্যবহার নতুন করে বাড়তে দেখা যাচ্ছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক বিঘা জমি পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করতে যেখানে হাজার টাকা ব্যয় হয়, সেখানে ঘোড়া দিয়ে হাল চাষে খরচ অনেক কম। জ্বালানি নির্ভরতা না থাকায় এটি যেমন অর্থসাশ্রয়ী, তেমনি পরিবেশবান্ধব একটি কৃষি পদ্ধতি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ করলে জমির উপরের মাটি অতিরিক্ত শক্ত হয় না এবং মাটির স্বাভাবিক গঠন বজায় থাকে। ফলে ফসলের শিকড় ভালোভাবে বিস্তার লাভ করে এবং উৎপাদনেও কোনো বিরূপ প্রভাব পড়ে না।
একজন কৃষক বলেন,
“ডিজেলের দাম এত বেশি যে পাওয়ার টিলার ভাড়া দেওয়া আমাদের পক্ষে কষ্টকর। বাধ্য হয়েই আমরা আবার ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ করছি। এতে খরচ কম, কাজও ঠিকঠাক হচ্ছে।”
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, যান্ত্রিক চাষের পাশাপাশি পশুভিত্তিক এই পদ্ধতি মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক। বিশেষ করে ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারিভাবে যদি এই পদ্ধতিকে উৎসাহ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়, তাহলে আধুনিক যন্ত্রপাতির বিকল্প হিসেবে ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ গ্রামীণ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।