পাবনা র চাটমোহরে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য ‘অপ্রতিরোধ্য চাটমোহর’ আংশিকভাবে ঢেকে দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ আসনের (চাটমোহর,ভাঙ্গুড়া,ফরিদপুর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আলী আছগারের নির্বাচনি প্রচার বিলবোর্ড স্থাপন করায় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ভাদ্রা বাইপাস এলাকায় এ বিলবোর্ড স্থাপনের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা একে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অবমাননা এবং নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে সরেজমিন দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য ‘অপ্রতিরোধ্য চাটমোহর’ এর ঠিক সামনে বাঁশ ও পাটাতন দিয়ে তৈরি একটি কাঠামোর ওপর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আলী আছগারের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বড় আকারের নির্বাচনি বিলবোর্ড টানানো হয়েছে। এতে ভাস্কর্যটির একটি বড় অংশ আড়াল হয়ে গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সচেতন নাগরিকরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রচারণার মাধ্যম হতে পারে না। এভাবে ভাস্কর্য ঢেকে নির্বাচনি প্রচার চালানো ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি চরম অসম্মান।
স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী জাতীয় স্মৃতিচিহ্ন, ভাস্কর্য ও ঐতিহাসিক স্থাপনার আশপাশে কোনো ধরনের নির্বাচনি পোস্টার, ব্যানার বা বিলবোর্ড স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ কারণে দ্রুত বিলবোর্ড অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
মুক্তিযোদ্ধার সন্তান গোলাম মোস্তফা বলেন, “এটি শুধু একটি বিলবোর্ড স্থাপন নয়, এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আঘাত। নির্বাচন আসবে-যাবে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সম্মান অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।”
এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার মিস্টার ইগ্নাসিউজ গমেজ জানান, বিষয়টি আমিও দেখেছি। এ বিষয়ে কি করা যায় তা ইউএনও মহোদয়ের সাথে আলাপ করবো।
বিলবোর্ড স্থাপনের ব্যাপারে জামায়াতের চাটমোহর উপজেলা শাখার আমীর মাওলানা মো: আব্দুল হামিদ জানান, এটাতো অল্প কয়েক দিনের ব্যাপার, তারপরেও যেহেতু আপত্তি এসেছে আমরা বিলবোর্ডটি পার্শ্ববর্তী কোন স্থানে স্থাপনের ব্যবস্থা করবো।
এ ঘটনায় জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আলী আছগারের মুঠোফোনে কল দিলে তার প্রতিনিধি হিসেবে ফোন রিসিভ করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হুরাইরা হৃদয় বলেন, বিষয়টি একটা মিসটেক। রাতের অন্ধকারে দেখা যায় নাই তাই ভাষ্কর্য ঢেকে গেছে। দ্বায়িত্বশীলেরা ওটা (বিলবোর্ড) সরিয়ে নেবে।
চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।