বুধবার , ২১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - শীতকাল || ২রা শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

ব্যস্ত নওয়াপাড়ার অদেখা দখলচিত্র ফুটপাথ থেকে রেললাইন, নূরবাগ এলাকায় ভাড়া নিচ্ছে কে?

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬

আধা কিলোমিটারে প্রতিদিন হাজারো মানুষের দুর্ভোগ, থামে না যানজট অদৃশ্য শক্তির সামনে অসহায় প্রশাসন? ‎ফুটপাথ থেকে রেললাইন কার দখলে নূরবাগ–হসপিটাল-মনিরামপুর রোড

‎‎যশোরের অভয়নগর উপজেলার শিল্প ও বন্দরকেন্দ্রিক শহর নওয়াপাড়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নূরবাগ–মণিরামপুর সড়ক এখন সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ নয়, বরং এক ধরনের অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। ব্যস্ত সড়ক, রেলক্রসিং, ফুটপাথ সবকিছুই যেন ব্যবহার করা হচ্ছে ভাড়াভিত্তিক নিয়মে। ‎‎নূরবাগ মোড় থেকে পশু হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য খুব বেশি নয়। কিন্তু এই ছোট্ট অংশ দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করে অসংখ্য মানুষ ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। সড়কের মাঝখান দিয়ে চলে গেছে খুলনা–ঢাকা রেললাইন, যা এলাকাটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ‎তবে এই গুরুত্বই যেন এখন অভিশাপ। বছরের পর বছর অব্যবস্থাপনা, দখল আর অনিয়মে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। ‎‎স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশে থাকা দোকানগুলোর সামনে ফুটপাথ নিয়মিত ভাড়া দেওয়া হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের কাছে। প্রতিদিন গুনতে হয় কয়েকশ টাকা, মাস শেষে যার অঙ্ক দাঁড়ায় কয়েক হাজার নয়, বরং পাঁচ অঙ্কের ঘরে। ‎‎ভুক্তভোগীরা জানান, কেউ কথা বললেই বিপদ। দোকান বসাতে না দেওয়ার ভয়, হুমকি আর চাপ,সব মিলিয়ে মুখ খুলতে চান না কেউই। ‎রেললাইনের ওপর ব্যবসা, কার অনুমতিতে?

‎সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যায় রেলক্রসিং এলাকায়। রেললাইনের ওপর কিংবা সিগন্যালের একেবারে কাছে বসেছে দোকান। দোকানিরা বলছেন, নিয়মিত টাকা দিতে হয়। কেউ কেউ দাবি করেন, নিজেকে রেল পুলিশের লোক পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি মাসে মাসে টাকা নিয়ে যান।

‎‎কিন্তু এই জায়গাগুলো কারা ব্যবহার করতে দিচ্ছে, সেই প্রশ্নের জবাব নেই কারও কাছে।

‎অবৈধ স্ট্যান্ড আর প্রতিদিনের বখরা

‎এই অল্প দূরত্বেই গড়ে উঠেছে একাধিক ভ্যান, ইজিবাইক, মাহিন্দ্র ও টেকার স্ট্যান্ড। স্থানীয়দের দাবি, এসব স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে। প্রতিদিন আদায় করা হয় নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা। ‎‎ক্ষমতা বদলালেও নিয়ন্ত্রণ বদলায়, দুর্ভোগ বদলায় না এমন মন্তব্য শোনা যাচ্ছে এলাকাবাসীর মুখে। ‎হাসপাতাল পথে যানজট, থেমে যায় জীবন

‎এই সড়ক দিয়েই যেতে হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিকে। যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে অ্যাম্বুলেন্স। রোগী, গর্ভবতী নারী, শিক্ষার্থী কেউই রেহাই পান না। ‎‎অনেকে বলেন, এখানে দাঁড়িয়ে থাকা মানে শুধু সময় নয়, কখনো কখনো জীবন হারানোর ঝুঁকি। ‎উন্নয়ন হলেও সমাধান নেই

‎অবৈধ দখল উচ্ছেদ না করেই সড়কের মাঝখানে গোলচত্বর নির্মাণ করা হয়েছে। এতে সমস্যা কমার বদলে আরও জটিল হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। মূল জায়গায় হাত না দিয়ে উন্নয়নের নামে খরচ, এই প্রশ্নও উঠছে। ‎‎এলাকাবাসীর দাবি স্পষ্ট ফুটপাথ ও রেললাইন দখলমুক্ত করতে হবে, অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করতে হবে, আর কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করতে হবে। ‎একই সঙ্গে প্রশ্ন রয়ে গেছে,

‎এই ব্যস্ত সড়ক ও রেলক্রসিং যারা ভাড়া হিসেবে ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে কবে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন? ‎নওয়াপাড়ার মানুষ এখন সেই জবাবের অপেক্ষায়।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।