যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সন্ধান পাওয়া গেছে প্রায় দুই শতাব্দী পুরনো দুটি লোহার সিন্দুক। ব্রিটিশ শাসনামল ও জমিদারি ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত এসব সিন্দুক বর্তমানে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকায় হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে মূল্যবান ইতিহাস। স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক সময় সিদ্ধিপাশা ছিল এই অঞ্চলের রাজস্ব আদায়ের অন্যতম কেন্দ্র। নড়াইলের জমিদাররা এখান থেকেই খাজনা আদায় করতেন এবং আদায়কৃত অর্থ, গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র ও হিসাব সংরক্ষণের জন্য এসব ভারী লোহার সিন্দুক ব্যবহার করা হতো। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তৈরি সিন্দুকগুলো তৎকালীন প্রশাসনিক ব্যবস্থার স্মারক। ইতিহাসবিদদের মতে, এসব সিন্দুক শুধু ধাতব কাঠামো নয়, এগুলো উপমহাদেশের জমিদারি শাসন, ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা এবং গ্রামীণ প্রশাসনের বাস্তব দলিল। অথচ বর্তমানে ভূমি অফিসের এক কোণে পড়ে থাকা সিন্দুক দুটিতে মরিচা ধরেছে, নেই কোনো সংরক্ষণ ব্যবস্থা কিংবা তথ্যফলক।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই ঐতিহাসিক নিদর্শন নষ্ট হয়ে যাবে এবং আগামী প্রজন্ম তাদের নিজস্ব ইতিহাস জানার সুযোগ হারাবে। তাই তারা সিন্দুক দুটিকে রাষ্ট্রীয় প্রত্নসম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রস্তাব অনুযায়ী, ভূমি অফিস প্রাঙ্গণেই একটি ছোট ঐতিহ্য গ্যালারি বা প্রদর্শনী কর্নার তৈরি করে সিন্দুকগুলো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা যেতে পারে। এতে একদিকে ইতিহাস সংরক্ষণ হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা অতীত সম্পর্কে ধারণা লাভ করবে। এ বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ সালাউদ্দিন দিপু বলেন, সিন্দুক দুটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সংরক্ষণের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ইতিহাসপ্রেমীরা মনে করছেন, এখনই যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে এই প্রাচীন সিন্দুকগুলো অভয়নগরের গর্ব ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।