বৃহস্পতিবার , ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - শীতকাল || ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

উন্নয়নের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে ঘোড়ার গাড়ি

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬

সড়কজুড়ে ছুটে চলছে ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটো ও ট্রাক। হর্নের শব্দে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। ঠিক এই ব্যস্ত, আধুনিক সড়কের মাঝেই চোখে পড়ে এক ভিন্ন দৃশ্য। ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে একটি ঘোড়া। তার সঙ্গে বাঁধা কাঠের তৈরি পুরোনো একটি গাড়ি, তাতে বোঝাই কাঁচা ঘাস। ঘোড়ার গাড়ির ওপর বসে থাকা মানুষটি সামসুল হক। তিনি পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার চর ভাঙ্গুড়ার গ্রামের বাসিন্দা। শামসুল গত ছয় বছর ধরে ঘোড়ার গাড়িটি ব্যবহার করছেন। তবে এটি তাঁর জীবিকার প্রধান মাধ্যম নয়, নিজের প্রয়োজনেই তিনি ঘোড়ার গাড়ি চালান। তবু দ্রুতগতির যান্ত্রিক সভ্যতার ভিড়ে তাঁর এই চলাচল যেন হারিয়ে যেতে বসা এক সময়কে চোখের সামনে এনে দেয়।

এক সময় গ্রামবাংলার পথে ঘোড়ার গাড়ি ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। হাট-বাজারে যাতায়াত, খড়-ঘাস কিংবা কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ায় এই বাহনের ব্যবহার ছিল স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই দৃশ্য বদলে গেছে। ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের দাপটে ঘোড়ার গাড়ি এখন প্রায় অদৃশ্য। সামসুল হকের ঘোড়ার গাড়ি তাই আজ আর কেবল একটি বাহন নয় এটি হয়ে উঠেছে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ জীবনের প্রতীক।

স্থানীয় পথচারী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এখন ঘোড়ার গাড়ি খুব একটা দেখা যায় না। উনাকে দেখলে মনে হয় পুরোনো গ্রামবাংলার একটা অংশ এখনও বেঁচে আছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক যানবাহন চালানো বা অন্য কাজ করা সামসুল হকের জন্য সহজ নয়। নিজের প্রয়োজন মেটাতে, বিশেষ করে ঘাস ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বহনের জন্য তিনি ঘোড়ার গাড়িটিই ব্যবহার করেন।

নিজের কথা বলতে গিয়ে সামসুল হক বলেন, এই ঘোড়ার গাড়িটা আমার অনেক দিনের অভ্যাস। ছোটবেলা থেকেই দেখেছি, ব্যবহার করেছি। এখনো নিজের কাজেই চালাই।
তিনি জানান, প্রতিদিন ভোরে ঘাস কাটা কিংবা ক্ষেত থেকে ঘাস আনার কাজ করেন তিনি। পরে সেই ঘাস ঘোড়ার গাড়িতে তুলে ধীরে ধীরে বাড়ির পথে ফেরেন। কোনো তাড়া নেই, নেই গতি বাড়ানোর প্রতিযোগিতা সবকিছু চলে তাঁর নিজস্ব ছন্দে। রোদ, শীত কিংবা বৃষ্টি প্রকৃতির সব পরিস্থিতিতেই তাঁকে পথে থাকতে হয়। এই পথচলাই তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ। আধুনিক যানবাহনের ভিড়ে ঘোড়ার গাড়ি অনেক সময় অন্যদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেউ বারবার হর্ন বাজায় কেউ বিরক্তিকর মন্তব্য করে এসব এখন সামসুলের নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা।

ভাঙ্গুড়া বাজারের দোকানদার রফিকুল ইসলাম বলেন, অনেকে বিরক্ত হয়, কিন্তু আসলে উনি কাউকে আটকানোর জন্য চালান না। নিজের প্রয়োজনেই চলেন।
স্থানীয় কলেজশিক্ষার্থী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “উনাকে দেখলে বোঝা যায়, উন্নয়ন মানে শুধু গতি নয়। কিছু মানুষ এখনও আগের মতোই জীবনযাপন করছেন।”
এলাকায় সামসুল হক এখন অনেকের কাছেই পরিচিত। কেউ থেমে তাকান, কেউ ছবি তোলেন। কিন্তু খুব কম মানুষই ভাবেন এই দৃশ্য আসলে আমাদের সমাজের কী পরিবর্তনের কথা বলছে। উন্নয়নের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া জীবনধারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা যত আধুনিক হচ্ছে, ততই হারিয়ে যাচ্ছে কিছু চেনা দৃশ্য।
সামসুল হকের ঘোড়ার গাড়ি সেই হারিয়ে যেতে বসা জীবনেরই এক নিঃশব্দ সাক্ষী। তিনি কোনো অভিযোগ করেন না, দাবি তোলেন না। শুধু নিজের মতো করে চলেন।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।