রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় অন্যের জমি দখল ও সরকারি নথিপত্র ঘষামাজা করে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে জালাল খাঁ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মাত্র ৮৬ শতাংশ জমি কিনে কৌশলে ২.৮৬ একর (২৮৬ শতাংশ) জমি নিজের নামে চালিয়ে দেওয়ার বিষয়টি এখন মোহনপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধোর্ষা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অধীনে মহানগর মৌজার ১৩৭ নং খতিয়ানের ১ নং দাগে মোট ৫.৯১ একর জমি বচন কারিকরের নামে রেকর্ডভুক্ত ছিল। ১৯৯৯ সালে ওই জমি থেকে ২.৯৬ একর জমি ক্রয় করেন রাজশাহীর নিজামুল হক। ক্রয়ের পর থেকে তিনি নিয়মিত খাজনা পরিশোধ ও ভোগদখলে ছিলেন (হোল্ডিং নং ১০১)।
পরবর্তীতে নিজামুল হক তার মালিকানাধীন সেই জমি থেকে ৮৬ শতাংশ জমি এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে জালাল খাঁর কাছে বিক্রয় করেন।
অভিযুক্ত জালাল খাঁ উপজেলার হোসেন আলী খাঁর ছেলে। পেশায় একজন আমিন হওয়ার সুবাদে নথিপত্রে কারচুপি করার বিশেষ সুযোগ পান তিনি।
জমির মূল মালিক নিজামুল হকের মৃত্যুর সুযোগ নিয়ে জালাল খাঁ ২০১০ সালের ৫১২৪ নং একটি দলিলের মাধ্যমে পুরো ২.৮৬ একর জমি নিজের দাবি করে বসেন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, মূল দলিল এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বালাম বইয়ে (স্থায়ী রেকর্ড বই) কৌশলে ঘষামাজা করে ‘৮৬ শতাংশ’ এর স্থলে ‘২.৮৬ একর’ লেখা হয়েছে। ভূমি অফিসের সরজমিন তদন্ত প্রতিবেদনেও এই ভয়াবহ জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়েছে।
সরকারি নথিপত্র (রেজিস্টার-৯) অনুযায়ী, জমিটি এখনো মৃত নিজামুল হকের নামেই রেকর্ডভুক্ত। অথচ জালাল খাঁ ও তার সহযোগীরা অবৈধভাবে জমিটি দখল করে মাছ চাষের জন্য অন্য পক্ষের সাথে চুক্তিনামা সম্পাদন করেছেন।
বর্তমানে ভুক্তভোগী নিজামুল হকের স্ত্রী হাসনাহেনা বেগম স্বামীর সম্পত্তি উদ্ধারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জালাল খাঁ দায়সারা উত্তর দিয়ে বলেন, “হ্যাঁ, আমি নিজামুল হকের কাছ থেকে জমি কিনেছি। ওগুলো সব সরকারিভাবে রেকর্ড হয়ে আছে। আমি আপনার সাথে কাল কথা বলব।” এই বলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ধোর্ষা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সুমিতা খাতুন বলেন, “আমরা বাদীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখেছি। জালাল জালিয়াতির চেষ্টা করেছে, আমরা তদন্ত প্রতিবেদনে সেটাই উল্লেখ করেছি। উক্ত দাগ খতিয়ানে এখনো নিজামুল হকই মালিক হিসেবে আছেন। এখন আদালত যে সিদ্ধান্ত দিবে, আমরা সেটাই গ্রহণ করব।”
মোহনপুর সাব-রেজিস্ট্রার তানিয়া তাহের জানান, “বিষয়টি অবগত হওয়ার পর আমি বালাম বইটি সিজ (জব্দ) করেছি এবং পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তের জন্য প্রেরণ করেছি। বিষয়টি এখন সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ারাধীন।”
এ বিষয়ে মোহনপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।