ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর চলমান বার্ষিক পরীক্ষায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। শিক্ষকরা দায়িত্বে না থাকায় বেশিরভাগ কেন্দ্রে পরীক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা গ্রহণের নির্দেশনা থাকলেও বহু বিদ্যালয়ে শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়ছে।উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনায় কিছু পরীক্ষাকেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবীরা পরীক্ষা পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছেন ।
বুধবার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, অনেক স্কুলে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা পরীক্ষার খাতা, প্রশ্নপত্র বা দায়িত্ব পালন করতে উপস্থিত হননি। শ্রেণিকক্ষে সারিবদ্ধভাবে বসে থাকা শিক্ষার্থীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছে, কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত কিছু বিদ্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবী ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রতিনিধিরা পরীক্ষা নেয়ার চেষ্টা করলেও তা পর্যাপ্ত নয়। অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা না দিয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শিক্ষকরা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই কর্মবিরতির মতো অবস্থান তৈরি করেছেন। কোথাও পরীক্ষা হচ্ছে, কোথাও স্থগিত এমন অসঙ্গতিতে পুরো উপজেলা জুড়ে অনিশ্চয়তা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশ্নপত্র থাকা সত্ত্বেও কিছু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরীক্ষা পরিচালনা না করে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেছেন।
অভিভাবকদের ক্ষোভও কম নয়। তারা বলছেন , “সারা বছর বাচ্চারা কষ্ট করে পড়াশোনা করেছে। এখন পরীক্ষার সময় শিক্ষকরা দায়িত্ব না নিলে আমরা কার কাছে যাব? স্বেচ্ছাসেবীরা তো সব দায়িত্ব একা সামলাতে পারে না।” তারা আরো বলেন , এ পরিস্থিতি শিশুর মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস জানায়, নান্দাইল উপজেলায় ১৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ৭০ টি প্রতিষ্টানের পরিক্ষা হয়েছে।
অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের অনেক শিক্ষক দাবি করছেন, দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান না হওয়া, বৈষম্য, পদোন্নতি সংকটসহ নানা কারণে তারা ক্ষুব্ধ। তাদের অভিযোগ, সমাধানের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই।
সব মিলিয়ে শিক্ষক অনুপস্থিতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অস্থিরতার কারণে নান্দাইলের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চরম সংকটে পড়েছে। চলমান বার্ষিক পরীক্ষা হলেও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবক ও সচেতন মহলে।