বুধবার , ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

“নান্দাইলে গড়ে উঠেছে বাঁশের মাচা চৌকি: গ্রামীণ ঐতিহ্যে নিরাপত্তা ও সচেতনতার ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত”

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫
প্রকৃতির নিবিড় কোলে গড়ে উঠেছে এক অভিনব নিরাপত্তা চৌকি। ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের কিছমত কচুরী গ্রামের শালবনের ভেতরে গাছের ডালে বাঁশ, কাঠ ও রশি দিয়ে নির্মিত হয়েছে একটি উঁচু মাচা। পা রাখার সিঁড়িসহ পুরো কাঠামোটি যেন একসঙ্গে ঐতিহ্য, সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রতীক।
এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন গ্রামের কিছু সচেতন তরুণ—শুভ, সাব্বির, ইমন, মেহেদী ও তানভীরসহ একদল যুবক। সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামে চুরি এবং সন্দেহজনক চলাফেরার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তারা নিজেরাই নিরাপত্তার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন।
তানভীর বলেন, “এক রাতে আমাদের গ্রামে সাতটি গরু চুরি হয়। থানায় জানানো হলেও, দূরত্ব বেশি হওয়ায় তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়া যায় না। তাই নিজেরাই দায়িত্ব নিয়েছি। নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে আরও ক্ষতি হতো। এই মাচা থেকে পুরো এলাকাটা নজরে রাখা যায়।”
সাধারণ কাঠ, বাঁশ ও রশি দিয়ে তৈরি মাচাটি থেকে পুরো গ্রামটি পর্যবেক্ষণ করা যায় সহজেই। এটি প্রযুক্তির বিকল্প না হলেও এক ধরনের মানবিক, সামাজিক এবং পরিবেশসম্মত নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এটি গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক নতুন রূপে প্রত্যাবর্তন।
গ্রামের প্রবীণ আব্দুল আওয়াল তাড়া মিয়া বলেন, “আগে ধানক্ষেতে পাখি তাড়াতে কিংবা চোর ঠেকাতে এমন মাচা বানানো হতো। এখন আবার তা ফিরে এসেছে। সবচেয়ে ভালো লাগে, গ্রামের ছেলেরা নিজেরাই করছে।”
স্থানীয় পারভেজ আহমেদ জামিন বলেন, “রাস্তার পাশে বাগানের ভেতরে গাছের সঙ্গে বানানো কাঠামোটি পরিবেশের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আছে। কংক্রিটের ছোঁয়া ছাড়াই প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করে বানানো এই মাচা গ্রামবাসীর সচেতনতার নিদর্শন। এ যেন আধুনিক নিরাপত্তার মাঝে এক টুকরো গ্রামীণ সৌন্দর্য।”
মো. দুলাল মিয়া বলেন, “এ উদ্যোগ কেবল নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি, ঐক্য এবং পারস্পরিক দায়িত্ববোধেরও প্রতীক। যারা পাহারা দিচ্ছেন, তাদের জন্য গ্রামবাসীর খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থাও করা উচিত।”
খোকন মিয়া বলেন, “এই মাচা যেন শুধু কয়েকটি কাঠ আর বাঁশের তৈরি উঁচু কাঠামো নয়—এটি গ্রাম বাংলার আত্মা, নিরাপত্তা, ঐতিহ্য ও মানবিক বন্ধনের জীবন্ত নিদর্শন।”
এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ কেবল নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না, বরং তরুণদের মধ্যে নেতৃত্ব, সচেতনতা ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জাগিয়ে তুলছে। পরিবেশবান্ধব ও প্রগতিশীল এমন উদ্যোগ হতে পারে দেশের অন্যান্য গ্রামাঞ্চলের জন্যও একটি অনুসরণযোগ্য অনুপ্রেরণা।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।