শুক্রবার , ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ২৪শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

যমুনা নদীর ওপর নির্মিত রেলসেতু উদ্বোধন 

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ, ২০২৫

যমুনা নদীর ওপর নবনির্মিত যমুনা রেল সেতুর উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা রেল সেতু পূর্ব প্রান্তের ইব্রাহিমাবাদ রেল স্টেশনে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।স্বপ্ন থেকে আরেক ধাপ এগিয়ে এখন বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ উদ্যোগে সম্ভাবনার দ্বার। উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের ৩ টি বিভাগের প্রবেশ দ্বার খ্যাত যমুনা নদীর ওপর নির্মিত আধুনিক ও দেশের সর্ব বৃহৎ রেলসেতু উদ্ভোদন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনের সভাপতিত্বে সেতু উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম।বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত মি. সাইদা শিনিচি, দক্ষিণ এশিয়া বিভাগ (জাইয়া) মহাপরিচালক মি. ইতো তেরুয়ুকি।

রেলসেতুটি কেবল প্রকৌশলগত বিস্ময় নয়,এর ফলে যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক নতুন দিগন্ত উন্মোচন ঘটলো।টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জের প্রমত্ত্বা যমুনা নদীর ওপর নির্মিত যমুনা সেতুতে রয়েছে ডাবল ট্র্যাক ও দুই পাশে দু’টি অত্যাধুনিক স্টেশন এবং ডেকের নিচে রয়েছে গ্যাস পাইপ লাইন ও বিদ্যুৎ লাইন যা উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে গুরুত্ব পূর্ণ অবদান রাখবে। তবে দুই প্রান্তের সিঙ্গেলট্র্যাকের কারণে এই আধুনিক সেতুটির পুরোপুরি সুফল পাওয় যাবে না। তাই দুই প্রান্তে ডাবল ট্র্যাকের কথা জানিয়েছেন নির্মাণ সংশ্লিষ্টরা।

যমুনা সেতু থেকে ৩০০ মিটার উত্তরে নির্মিত যমুনা রেলসেতুটি ৫ জানুয়ারি পরীক্ষা মূলক ভাবে উদ্বোধন করা হয়। সে দিন ২০ কিমি থেকে ১২০ কিমি গতিতে ট্রেন চালিয়ে পরীক্ষা করা হয়।

ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার পর এই রেলসেতু দিয়ে বিরতিহীন ভাবে প্রতিদিন কমপক্ষে ৮৮টি ট্রেন ১২০ কিমি গতিতে সেতু পারাপার হতে পারবে। ফলে সেতু পারাপারে ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় বেচে যাবে।

যমুনা রেলওয়ে সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিডি) আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান জানান, এরইমধ্যে রেল সেতুর ওপর দিয়ে একাধিবার ট্রায়াল ট্রেন চালিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে।

প্রকল্প সূত্র জানা গেছে, নির্মাণাধীন যমুনা রেলওয়ে সেতু দিয়ে সাধারণ ট্রেন ছাড়াও দ্রুতগতির (হাইস্পিড) ট্রেনও চলাচলের উপযুক্ত করে নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে সেতুতে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানো যাবে। তবে শুরুতে (উদ্বোধনের ১ বছর) সাধারণত ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করবে।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে নেয়া প্রকল্পে চূড়ান্ত নকশা প্রণয়নসহ রেলসেতুর নির্মাণ ব্যয় প্রথমে ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি ৭ লাখ টাকা ধরা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এর মেয়াদ ২ বছর বাড়ানো হয়। এতে প্রকল্পের ব্যয়ও বৃদ্ধি করা হলে তা ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি ৯৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা দাঁড়ায়। এরমধ্যে দেশীয় অর্থায়ন ২৭.৬০ শতাংশ এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ঋণ দিয়েছে ১২ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা। যা প্রকল্পের ৭২.৪০ শতাংশ।

এই রেল সেতুর সমান্তরাল ডুয়েলগেজ ও ডাবল ট্র্যাকসহ প্রায় ৪ দশমিক ৮০ কিলোমিটার রেলসেতুর দুই পাশে ০.০৫ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট, ৭ দশমিক ৬৬৭ কিলোমিটার রেলওয়ে অ্যাপ্রোচ এমব্যাংকমেন্ট এবং লুপ সাইডিংসহ রেললাইন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পে রেলপথের পাশাপাশি সেতুর গ্যাস সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে।

১৯৯৮ সালে যমুনা সেতু চালু হওয়ার পরই ঢাকার সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়। তবে ২০০৮ সালে সেতুটিতে ফাটল দেখা দেয়ায় কমিয়ে দেওয়া হয় ট্রেনের গতি। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩৮টি ট্রেন ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার গতিতে সেতু পারাপার হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার যমুনা নদীর ওপর আলাদা রেল সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি সেতুটি নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন। এরপর ২০২১ সালের মার্চে রেল সেতুর পিলার নির্মাণে পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়।

গত ১০ মার্চ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে বঙ্গবন্ধু সেতুসহ ১৬ টি প্রতিষ্ঠান ও সড়কের নাম পরিবর্তন করা হয়। ঐ চিঠিতে বঙ্গবন্ধু সেতুর নাম পরিবর্তন করে ‘যমুনা সেতু’ নাম করণ করা হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলসেতুর নাম পূর্বেই ‘যমুনা রেলসেতু’ নাম করণ করা হয়।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।